শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফিরিয়ে রায় কার্যকর করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার ও আদালতের দেয়া রায় কার্যকর করা হবে। আপিলের সুযোগ থাকলে তা আইন ও আদালতই নির্ধারণ করবে।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানে বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত সাবেক সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক বা নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও সংগঠন হিসেবে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের উলেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন উভয়েরই বিচার করার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সব কিছুরই হিসাব নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণহত্যায় জড়িত, সেই সংগঠনকেও তার দায় নিতে হবে। তিনি নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে নাৎসি বাহিনী ও সংশিষ্ট সংগঠনগুলোকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও গণহত্যার দায় থেকে আওয়ামী লীগ রেহাই পেতে পারে না।

তিনি অভিযোগ করেন, “আসমান থেকে গুলি করে সাধারণ গৃহিণী ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। এমন ঘটনা বিশ্বে নজিরবিহীন। তারা কখনো এই দায় এড়াতে পারে না।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।