সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালুর প্রস্তাব মিয়ানমারের

বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক : বাংলাদেশ চায় দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে পাশর্^বর্তী দেশ মিয়ানমার। জবাবে বাংলাদেশ বলেছে, সীমান্ত বাণিজ্য চালু করা যেতে পারে; তবে পাশাপাশি দ্রুত রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে হবে।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো এ প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন।

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে আবার চালু করা যেতে পারে। একইসাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো, সরাসরি নৌযোগাযোগ স্থাপন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু, সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য আবার চালু করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত কিংবা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ ও হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস বা বিটুবি কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই চলছে

বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসনকার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ দ্রুত সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দেন।

উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা এবং যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়। পরবর্তী যৌথ বৈঠক বাংলাদেশে আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।

সরাসরি নৌযোগাযোগের তাগিদ

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ স্থাপন এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বলা হয়, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।