ভারতীয় সুতার বন্ড সুবিধা বাতিল চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ভারত থেকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রফতানিমুখী পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে ও প্রতিযোগিতা সক্ষম রাখতে আশির দশক থেকে সুতা আমদানিতে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। দেশের বস্ত্রকল মালিকরা চান না এ সুবিধা আর বহাল থাকুক। কারণ প্রতিবেশী দেশ ভারত কম দামে বাংলাদেশে সুতা রফতানি করছে। তাদের অভিযোগ ভারত সুতা এখানে ডাম্পিং করছে। ফলে অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে তারা। ব্যবসায়ীদের দাবির সাথে একমত সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বলছে, প্রতিবেশী দেশ থেকে কটন সুতা আমদানিতে বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার হোক।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর খতিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে। খুব শিগগিরই একটি সভা আহ্বান করা হতে পারে।

জানা গেছে, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিকে বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমর্থন করেছে। একই সাথে আমদানি বিল অব এন্ট্রিতে কটন সুতার কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ নিশ্চিত করতে কাস্টম হাউসগুলোকে নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত থেকে। এর মধ্যে নিট গার্মেন্টস খাতের অবদান প্রায় ৫৫ শতাংশ। সরকার আশির দশক থেকে রফতানি খাতকে উৎসাহিত করতে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কম দামে সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় উৎপাদনকারীরা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছেন।

দেশীয় উদ্যোক্তারা প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলেছেন, যা দেশের সুতা ও কাপড়ের বড় অংশের চাহিদা পূরণ করছে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পাশের দেশগুলোর শিল্পবান্ধব নীতি ও প্রণোদনার কারণে তারা তুলনামূলক কম দামে সুতা রফতানি করছে, ফলে দেশীয় উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এ অবস্থায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিট গার্মেন্টস খাত আমদানিকৃত সুতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, লিড টাইম বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কমে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হতে পারে। এসব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।