নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যামিলি কার্ড প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে যেন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছায়, সেজন্য স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সব কাজ করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের কার্যক্রম কতটুকু এগুচ্ছে জানতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, তারেক রহমানরে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস. এম. আব্দুল আওয়াল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হোংবো। গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, সাক্ষাতে আইএলও মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আইএলও মহাপরিচালক বলেছেন, আইএলও বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সাথে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার কথা বলেছেন।
আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য মহাপরিচালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরো জোরদার, শ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার প্রভৃতি বিষয় আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসঙ্ঘ) মো: কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে উপস্থিত ছিলেন।
আনিফার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী : জন্মগতভাবে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই বছরের শিশু আনিফা আখতারের চিকিৎসা ব্যয় বহনের অক্ষম তার পরিবার। এরকম একটি সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তার অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক শাহ মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান শিশু আনিফা আক্তারকে দেখতে যান। তার চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেন।
আগামী মাসে প্রবাসী কার্ড চালু
আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
তিনি জানান, এই কার্ডে থাকবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা। এই কার্ড প্রদানে সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দেয়া।
উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া। এ ছাড়া, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কুনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেয়া।
শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলভাবে উদ্বোধন হবে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের ভরসার জায়গা হয়
বাসস জানায় প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পায়। গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য যেন অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।
একইসাথে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো: সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে গত পাঁচ মাসের অর্জন সর্ম্পকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন।
তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।



