ডিএনসিসি প্রশাসক, এমপি ও পুলিশের ওপর হামলা

নেপথ্যে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব

সাবেক কর্নেলসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিকের বিরুদ্ধে ২ মামলা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পুলিশের ওপর হামলা ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে উত্তেজনার মুখে পড়েন ডিএনসিসির প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ঘটনায় নেপচুন অ্যাকসেসরিজ নামে একটি পোশাক কারখানার পরিচালক কর্নেল (অব:) জাকিরসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও স্থানীয় এক ব্যক্তি পৃথক দু’টি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে গতকাল তাদের আদালতে তোলা হলে দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কর্নেল (অব:) জাকিরসহ ২২ জনকে জামিনের আদেশ দেন।

এর আগে গত রোববার সকালে উত্তরখানের রাজাবাড়ী এলাকার অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সকালে ডিএনসিসির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাবাড়ী এসটিএসে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সাথে পাশের নেপচুন অ্যাকসেসরিজ পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিকের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর পুলিশের ওপর হামলা ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উত্তরখান থানার ওসিসহ কয়েকজন আহত হন।

এ দিকে দীর্ঘদিন যাবৎ নেপচুন অ্যাকসেসরিজের ঝুট ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ চলছিল। সেখানকার কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, কারখানার ঝুটের ঝামেলার জন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে কারখানার সামনে বর্জ্য ফেলে রাখা হয়। এতে কারখানার শ্রমিকরা যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত রোববার সকালে শ্রমিকরা বর্জ্য ফেলতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। খবর পেয়ে উত্তরখান থানা পুলিশ যাওয়ার পর সেখানেও আরেক দফা মারামারির ঘটনাসহ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পোশাক কারখানার পুরিচালক কর্নেল (অব:) জাকিরের সাথে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জাকিরসহ ২২ জনকে আটক করে।

থানায় পৃথক ২ মামলা ও জামিন : উত্তরখান থানার মামলা সূত্রে দেখা গেছে, রোববার রাতে উত্তরখান থানার এসআই (নিরস্ত্র) সফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করেন। একই ঘটনায় আনিসুর রহমান পলাশ নামে আরেক ব্যক্তি মামলা করেন। পুলিশের মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, মো: জাকির হোসেনসহ কারখানার শ্রমিক এবং এজাহারনামীয় ২২ সহ অজ্ঞাত নামা আরো ২০ থেকে ২৫ রোববার দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সেকেভারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সামনে এসআই সফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় এএসআই (নিরত্র) মো: সাইফুল ইসলাম, মো: রজব আলী, ড্রাইভার কনস্টেবল নাদিম, মোবাইল-৯৩ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার এসআই (নিরস্ত্র) জাহিদ হোসেন, এএসআই (নিরস্ত্র) মো: আব্দুর রহিম, কনস্টেবল মো: শরিফুল ইসলাম, নারী কনস্টেবল মিতু আক্তার, এসআই (নিরস্ত্র) অনুপম দাস, নারী এএসআই আমেনা আক্তার, কনস্টেবল সাজেদুল ইসলাম, কনস্টেবল মাসুদ সরকার এবং উত্তরখান ওসি পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো: হাবিবুর রহমান গিয়ে দেখতে পান নেপচুন অ্যাকসেসরিজ কারখানার সামনে লোকজন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) কর্মকর্তা কর্মচারীদের ওপর এজাহারনামীয় আসামিরা আক্রমণ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে আসামিরা পুলিশ সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঠা দিয়ে আহত করে। এ সময় থানার ওসিসহ অফিসাররা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে এজাহার নামীয় আসামিদের হাতেনাতে আটক করে থানায় আনা হয়। অবৈধভাবে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা প্রদানসহ পুলিশকে আহত করায় রোববার রাত ২টা ৫ মিনিটে মামলা করেন। মামলা নম্বর-৩। আরেক মামলা বাদি আনিসুর রহমপান পলাশের মামলা নম্বর-১। গতকাল বিকেলে কর্নেল (অব:) জাকিরসহ ২২ জনকে আদালতে তোলা হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবী শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় সবাইকে জামিন মঞ্জুর করেন।

এক্সফোর্সেস ও সামরিক বাহিনীতে ক্ষোভ : ডিএনসিসির প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের আচরণে এক্স ফোর্সেস ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি- দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ডিএনসিসি প্রশাসক ও একজন এমপির এমন আচরণ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের শামিল। সাবেক একজন কর্নেলকে যেভাবে হেস্তন্যাস্ত করা হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে রোববার গভীর রাত পর্যন্ত রাওয়া ক্লাবে সাবেক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বৈঠক করেন বলে একাধিক সূত্র জানায়। গতকাল এ বিষয়ে কথা হলে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তা জানান, আমরা আজ (সোমবার) পর্যন্ত দেখব সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। এরপর আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব।