এএফপি
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে মৌসুমি বন্যার প্রভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। তলিয়ে গেছে গ্রাম ও ধানের ক্ষেত। ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের পাশাপাশি সঙ্ঘাতের কারণে আগে থেকেই বাস্তুচ্যুত মানুষজনও ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, জুলাই মাস থেকে সাগাইং, রাখাইন, ইরাবতী ও কাচিন রাজ্যে ভয়াবহ মৌসুমি বন্যায় আনুমানিক তিন লাখ ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে কেবল সাগাইং অঞ্চলেই ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয়(ওসিএইচএ) জানিয়েছে, এই সংখ্যার মধ্যে ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে সৃষ্ট গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মধ্যাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলের ওয়েটলেট টাউনশিপের বাসিন্দা চো মিন্ট বলেন, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, সেই কষ্টের কথা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং এখন তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
ওয়েটলেট টাউনশিপের আরেক বাসিন্দা উ সিন্ট জানান, ওই এলাকায় আশ্রয় নেয়া সঙ্ঘাতকবলিত বাস্তুচ্যুত মানুষেরা ছোট ও অস্থায়ী যেসব ঘরে থাকতেন, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, তারা কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ।
মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১১ আগস্ট পর্যন্ত সাগাইং অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে তিন হাজার ২২০টি পরিবারের ১১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ওচার মুখপাত্র পিয়ের পেরন গত শুক্রবার এএফপি-কে জানান, ভারী বর্ষণে কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থাটির কাছে এখনো কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকা এবং বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপদসীমা বা তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সহায়তায় জাতিসঙ্ঘের সহযোগী সংস্থাগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে। এরপর বাড়িঘর, আশ্রয়কেন্দ্র, অবকাঠামো ও কৃষিজমির ওপর বন্যার আঘাত মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও জীবিকা নির্বাহের সহায়তার ক্ষেত্রে। মৌসুমি বর্ষা কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত নিয়ে এলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এই আবহাওয়া পরিস্থিতি মানবিক জীবনযাত্রায় বিপর্যয় নেমে এসেছে।



