১১৫ মিলিয়ন কেজি উৎপাদনের লক্ষ্য

চা উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যে জোর

Printed Edition

এম এ রকিব শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের চা গাছের ব্যাপক রোপণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এ লক্ষ্য অর্জনে জলবায়ু ও খরাসহনশীল জাতের চা চাষ সম্প্রসারণ, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উপযোগী জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সাধারণ চায়ের পাশাপাশি গ্রিন টি, উলং টি, হোয়াইট টি ও অন্যান্য ভ্যালু অ্যাডেড (মূল্য সংযোজিত) চা উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যান্ডিং ও আধুনিক প্যাকেজিং উন্নয়নেও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

শতবর্ষেরও বেশি পুরনো এ শিল্প বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে সমন্বিত উদ্যোগে এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও গুণগত মান উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি বাগানের ব্যবস্থাপক ও ক্ষুদ্র চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে নতুন বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি চা রফতানিতে বিভিন্ন প্রণোদনা এবং ভ্যালু অ্যাডেড চায়ের উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং ও আধুনিক প্যাকেজিং উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের মজুরি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চা বাগানের উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদি কৃষিঋণ এবং ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রতি কেজি চায়ের ন্যূনতম নিলাম মূল্য সিলেটে ২৪৫ টাকা এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৭২টি চা বাগানের মোট দুই লাখ ৯৪ হাজার ১৪২ একর জমির মধ্যে এক লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ একরে চাষ হচ্ছে। অবশিষ্ট প্রায় ১৬ হাজার একর জমি ভবিষ্যতে চা চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্যানুযায়ী, ১৮৪০ সালে চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক চাষের পর ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটেও চা চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে চা রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। ২০২৫ সালে দেশে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয় এবং রফতানি হয় ১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি। চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভ্যালু অ্যাডেড চায়ের উৎপাদন কম থাকায় সর্বোচ্চ উৎপাদনের বছরগুলোতেও (২০২৩ সালে ১০২.৯২ মিলিয়ন কেজি) রফতানি আশানুরূপ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

বাাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১০৪ মিলিয়ন কেজি। উৎপাদন ইতোমধ্যে গত বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২০৩০ সালের ১১৫ মিলিয়ন কেজির লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। বিটিআরআই উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সব বাগানকে ভ্যালু অ্যাডেড চা উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে। ব্লেন্ডিংয়ের প্রয়োজনে সীমিত ভ্যালু অ্যাডেড চা আমদানি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রফতানি বাড়াতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি চায়ের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।