নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো: সরওয়ার বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে যানবাহন সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ও শপিংমলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য প্রতিরোধ এবং দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র মাহে রমজানে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো: সরওয়ার বলেন, রমজান মাসে ইফতারের সময় রাজধানীতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে, কারণ অধিকাংশ অফিস একই সময়ে ছুটি হয়। নগরবাসী যাতে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছে ইফতার করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা অতিরিক্ত ফোর্সসহ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক পুলিশ সদস্য যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়কেই ইফতার করছেন বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, ফুটপাথ ও সড়কের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বাস চলাচলের সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রবেশ ঠেকাতে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। সবার সহযোগিতায় রমজান মাস শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো: নজরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩টি রোজা অতিবাহিত হয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগরে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাকি রোজাগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে ঈদ উৎসব সুন্দরভাবে উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, দোকান, মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হবে এবং ব্যবসায়ীরাও নিরাপদ থাকবেন। যেকোনো প্রয়োজনে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া রমজানে নগদ অর্থ ও মূল্যবান দ্রব্য পরিবহনে ডিএমপির এস্কর্ট সেবা গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।
সমন্বয় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো: মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



