তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ সুনামগঞ্জ
সুরমা নদীর করাল গ্রাসে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কামধরপুর গ্রামের শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কৃষিভিত্তিক এই গ্রামের বাসিন্দারা।
সরেজমিন দেখা যায়, নদীর ভাঙনে পুরো গ্রামজুড়ে ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। গ্রামের মসজিদ, গ্রামীণ বাজার, কৃষকদের ভিটামাটি এবং পাকা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বাজারটির প্রায় ৭০টি দোকানের ব্যবসায়ীরাও দোকানপাট হারানোর ভয়ে চিন্তিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে কামধরপুর ও আশপাশের এলাকায় সুরমা নদীর ভাঙন তীব্র হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
কামধরপুর ছাড়াও আলীপুর ও রামপুরসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন ভাঙনকবলিত। গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন গ্রাম। যে মাঠে একসময় আমরা খেলাধুলা করেছি, তা এখন নদীর পেটে। যে হারে ভাঙন বাড়ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের অস্তিত্বই মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির সীমানা প্রাচীর ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।
ফেনারবাঁক বিএনপি নেতা জুলফিকার চৌধুরী রানা বলেন, ভাঙনে অনেকে বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটামাটি হারিয়েছেন। গ্রাম, মসজিদ ও বাজার রক্ষায় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি কামধরপুরের পাশাপাশি রামপুর, জামলাবাজ, গজারিয়া ও নিধিপুরসহ ভাঙনকবলিত অন্যান্য গ্রাম রক্ষায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, জামালগঞ্জের কামধরপুরসহ সুরমা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।



