বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

আর্জেন্টিনার ম্যাচ রাত পোহালেই

Printed Edition
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেটপিচ প্র্যাকটিসে ঘাম ঝরাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি  : ইন্টারনেট
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেটপিচ প্র্যাকটিসে ঘাম ঝরাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি : ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রের মাটি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ দেয়নি। ১৯৯৪ সালে এখানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ দিয়েগো ম্যারাডোনার দেশকে কাঁদিয়েছিল। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ম্যারাডোনা ধরা পড়েন ড্রাগ টেস্টে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে পরের দুই ম্যাচেই হার এবং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়। এরপর ২০১৬ সালে এই যুক্তরাষ্ট্রেই কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরেছিল চিলির কাছে। কোপা আমেরিকার সেই ব্যর্থতা অবশ্য ২০২৪ সালে এই মার্কিন মুল্লুকে আর্জেন্টিনা ঘুচিয়েছিল। কলম্বিয়াকে ফাইনালে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকা জয়। কনমেবল আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার কি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ঘুচবে আর্জেন্টিনার। এবার যে তাদের বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশন। তাই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই বিশ্বকাপের সব স্পট লাইটই এখন তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের ওপর। লিওনেল স্কালোনির দল পারবে কি না- সেই প্রশ্নে ইতিবাচক উত্তর দিতেই আগামীকাল বুধবার ভোরে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপের এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। এই ম্যাচের মাধ্যমেই টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা হবে লিওনেল মেসির। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশের লড়াই কানসাস সিটিতে।

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে কখনই দেখা হয়নি আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবেচেয়ে বেশি দেখা হয়েছিল নাইজেরিয়ার সাথে। প্রতিবারই তারা ভুগিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দেশটিকে। সেই নাইজেরিয়া এবার নেই। আর অপর আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনতো ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলিয়ে শেষ পর্যন্ত দিয়েগো ম্যারাডোনার দল ফাইনালে গেলেও চ্যাম্পিয়ন আর হতে পারেনি। এবার কি আর্জেন্টিনা সহজেই পার পাবে আলজেয়িার বিপক্ষে। একে তো আফ্রিকান প্রতিপক্ষ বলে কথা। তার উপর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেতাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিওনেল মেসি বাহিনী ভুগছে ইনজুরি সমস্যায়। তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজই আঙুলের মারাত্মক চোট থেকে মুক্তি পেতে লড়ছেন। লেফট ব্যাক নিকোলাস টাগলিয়াফিকো এবং সেন্টার ব্যাক ফাকুন্দো মাদিনাও ইনজুরিতে। অবশ্য আশার কথা হলো দলের প্রধান গোলরক্ষক মার্টিনেজ সুস্থ হয়েছেন। সম্ভবত তিনিই আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম একাদশে থাকছেন। ইউরোপিয়ান লিগে অ্যাস্টন ভিলাকে তিনি চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন ভাঙা আঙুল নিয়েই। এরপর থেকে তিনি মাঠের বাইরে। যদি টাগলিয়াফিকো সুস্থ থাকেন তাহলে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড়দের নিয়েই একাদশ চূড়ান্ত করবেন কোচ নিওনেল স্কালোনি। যেমনটি ব্রাজিল ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে করেছিল এবং ধরেও রেখেছিল বিশ্বকাপ।

আফ্রিকান দেশটির বিপক্ষে ফেবারিট ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২-এর চ্যাম্পিয়নরা। তবে নিজ মহাদেশের ক্যামেরুন এবং আরব বিশ্বের সৌদি আরবের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আলজেরিয়া যদি আজ মরণ কামড় দেয় মেসিদের ওপর তাহলে হবে আরেক ইতিহাস। উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর ক্যামেরুরেন মতো গত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে প্রথম ম্যাচে হারিয়েছিল সৌদি আরব। আর আলজেরিয়া আফ্রিকান দেশ হলেও আরবি ভাষায় কথা বলে সে দেশের মানুষ। ফলে তারা আরব বিশ্বের অংশ।

কাল ভোরে আর্জেন্টিনার মোকাবেলার আগে টানা চার ম্যাচে অপরাজিত আলজেরিয়া। আর আর্জেন্টিনা টানা সাত ম্যাচ জিতে তবেই এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তারা সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হেরেছিল ইকুয়েডরের কাছে। আর্জেন্টিনা অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষেই খেলে জয়ের ধারায় আছে। সেই সাথে একে একে ফুটবলাররা ইনজুরিতে পড়েছেন। আলজেরিয়া দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সাথে ড্র করেছে। হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও বলিভিয়াকে। বলিভিয়ার বিপক্ষে তারা জিতেছিল ৪-০তে।

তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে একটি বাধা হিসেবে সামনে আছে ফিফা র‌্যাংকিং। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান নিয়ে যে দলই বিশ্বকাপে খেলেছে তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এখন মেসি, লাউতারো, আলভারেজরা কি পারবেন শীর্ষে থাকা র‌্যাংকিংয়ের কুফা কাটাতে।

এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা একবারই ম্যাচ খেলেছিল আলজেরিয়ার সাথে। ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর সেই ফিফা প্রীতিম্যাচে ল্যাতিন দেশটির জয় ছিল ৪-৩-এ। আর্জেন্টিনা সেই ১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপে খেললেও আলজেরিয়ার বিশ্বকাপে অভিষেক ১৯৮২ সালে স্পেনে। এরপর ১৯৮৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। এই মেঘা আসরে তাদের সেরা অর্জন ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেবার তারা দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পেরেছিল। গ্রুপ পর্বে তাদের কাছে ২-৪ গোলে পরাজিত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। আর রাশিয়ার সাথে ১-১-এ ড্র করা। পরে জার্মানির কাছে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অতিরিক্তি সময়ের গোলে ১-২-এ হেরে বিদায়। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তারাতো প্রায় ধরেই ফেলেছিল ব্রাজিলকে। গোল মিসের খেসারত দিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরেছিল ০-১-এ। ১৯৮২-এর বিশ্বকাপে তারা ২-০তে চিলিকে হারিয়েছিল।

এবার তাদের চ্যালেঞ্জটা কেন হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। দলের ফরোয়ার্ড আনিস হাজি মুসা জানিয়েছেন, ‘আর্জেন্টিানাকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে।’ বর্তমানে অফ্রিকান এই দেশটির ফিফা র‌্যাংকিং ২৮।