সিলেট ব্যুরো
সিলেট নগরীর রায়নগরের চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত দম্পতির কন্যারা তাদের মা-বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট মহানগরীর শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গণে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ আহমদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত দম্পতির কন্যা তাহমিনা সাত্তার এনি ও সেলিনা সুলতানা শিখা।
মানববন্ধনে নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী এলাকায় অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শুধু সিলেটবাসী নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরাও গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে খারাপ ব্যবহারের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ চুরি করা টাকা কিংবা বাসাভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে- এমন বক্তব্যও সামনে এসেছে। এসব পরস্পর ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নিহতদের কন্যারা বলেন, একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য আসায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সিলেটবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে হেলাল চৌধুরী প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে এলাকার মুরব্বি মিল্লাত আহমেদ, সুয়েব আহমদ, রুবেল আহমেদ, ফাহিদ আহমদ, তানভীর আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



