মুনিয়ার বৃৃষ্টিতে ভেজা : জুবায়ের হুসাইন

Printed Edition
মুনিয়ার বৃৃষ্টিতে ভেজা : জুবায়ের হুসাইন
মুনিয়ার বৃৃষ্টিতে ভেজা : জুবায়ের হুসাইন

জামাটা গায়ের সাথে লেপ্টে আছে মুনিয়ার। ভ্যাপসা গরমে ওর খুব কষ্ট হচ্ছে।

যদিও বর্ষা ঋতু চলছে এবং মাসটা বাংলায় আষাঢ়। তারপরও গরম একেবারেই কাটছে না এবং তাপমাত্রা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

গতকালের তুলনায় আজ দেড় ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা।

স্কুলে গরমের ছুটি চলছে। এবার ঈদুল আজহা আর গরমের ছুটি একবারে পড়েছে। ফলে ছুটিটাও বেশ লম্বা।

মুনিয়ার সময়গুলো একেবারেই কাটছে না। স্কুলে যেতে না পারলে কারই বা ভালো লাগে?

ওর বান্ধবী বলতে তো সব স্কুলের। অবশ্য পাশের বাড়ির রাহার সাথে ওর বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে কয়েক দিন হলো। রাহাটা খুব ভালো মেয়ে। ওর থেকে বয়সে মাস ছয়েকের ছোট। তারপরও দু’জনের সাথে বেশ পটে। মনের দারুণ মিল। সে কারণে সহজেই ওরা একে অপরের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষাকে বুঝতে পারে।

নিজের রুমে বিছানায় শুয়ে অলস সময় কাটাচ্ছিল মুনিয়া। ওর হাতের আম্মুর টাস ফোনটা। মোবাইল খুব একটা নেয় না ও। ওর বন্ধুরা যেভাবে মোবাইল দেখার জন্য বিভিন্ন সুযোগ খোঁজে, ও সে সময়টাতে নানান বিষয়ে জানার জন্য চেষ্টা করে। যখন বাসায় কেউ থাকে না, আম্মুটাও রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন ও চলে যায় দাদুর ঘরে। দাদুকে তখন প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। কিন্তু দাদু একেবারেই বিরক্ত হন না। মুনিয়ার এই জানার আগ্রহটা তাকে আনন্দিত করে তোলে। তাই খুবই সহজভাবে মুনিয়ার জানার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এই যেমন- আজ সকালেই একবার রুশে এসেছিল নাতনিটা। এসেই সরাসরি প্রশ্ন করে বসল, ‘আচ্ছা দাদু, আমরা যে বলি আমাদের বয়স বাড়ছে, কিন্তু আসলেই কি তাই?’

দাদু কয়েক মুহূর্ত ওর দিকে তাকিয়ে থাকেন। যেন ওর সিরিয়াসনেসটা বুঝতে চেষ্টা করেন। তারপর মুখে কোমল একটা হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে বলেন, ‘তোমার মন কী বলে দাদুভাই?’

‘আমার তো মনে হয় আমাদের বয়স দিনে দিনে কমতে থাকে।’ দাদুর কোলঘেঁষে বসে মুনিয়া। ‘এই রকম মনে হওয়ার কারণ?’

‘কারণ তো খুবই সোজা। আমাদের যদি বয়স বাড়ত, তাহলে আমরা তো মৃত্যুবরণ করার কথা না। দিন যত যায়, আমরা তো মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকি। তার মানে আমাদের জীবন থেকে সময়গুলো কমতে থাকে।’

দাদুভাই মুনিয়ার চুলগুলো ইলিবিলি কেটে এলোমেলো করে দেন। ওই অবস্থাতেই মাথার মাঝখানটিতে একটা চুমু এঁকে দেন। বলেন, ‘এই জন্যই তো তুমি আমার জ্ঞানী দাদুভাই। বিষয়টা তুমি কত সুন্দর করে ব্যাখ্যা করলে, কিন্তু কেউই সেটা করে না। এখন থেকে আমাদের সবাইকেই সেটা করা উচিত।’

‘আচ্ছা দাদু, আল্লাহ কি আমাদের এই গরমটা না দিলে পারতেন না?’ প্রসঙ্গ পাল্টে আবার জানতে চাইল মুনিয়া।

দাদু বললেন, ‘এই গরম দেয়ারও একটা কারণ আছে। সে কারণ সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবীপাক ব্যাখ্যা করেছেন। বিষয়টা হাদিসে উল্লেখ আছে। সেই হাদিস অনুযায়ী, জাহান্নাম বা দোজখ আল্লাহর কাছে আবেদন করে বলল যে তার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। তাই তাকে যেন শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগের অনুমতি দিলেন। এর একটি শীতকালে এবং অপরটি গরমকালে। গরমকালে যখন জাহান্নাম শ্বাস নেয়, তখন আমাদের গরম লাগে। গরমের তীব্রতা আমাদেরকে জাহান্নামের তীব্রতার কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই এই সময় আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া উচিত।’

‘তুমি তো খুব দামি একটা কথা বললে দাদু।’ সব শুনে বলল মুনিয়া। ‘কয়েক দিন ধরে খুব গরম পড়ছে। আর আজকে তো গরমে টেকাই যাচ্ছে না। আমি যদি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করি, তাহলে কি তিনি আমার কথা শুনবেন দাদু?’

‘অবশ্যই শুনবেন! আমাদের আল্লাহ চান না তার কোনো বান্দা কষ্ট পাক। সেজন্যই তো বিপদ দিয়ে আবার তা থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন।’ ‘আমি তো কোনো বিপদে পড়লেই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। আর আল্লাহ আমার সে বিপদ দূর করে দেন।’

মাথার ওপর যে পাখাটা এতক্ষণ বনবন করে ঘুরছিল, হঠাৎ করেই সেটা বন্ধ হয়ে গেল।

আর সাথে সাথেই শরীরের ভেতরে জ্বালা করে উঠল মুনিয়ার। ভীষণ গরম লাগছে ওর।

বিছানায় উঠে বসল ছোট্ট মেয়েটা। বুকের কাছটা কেমন হাঁসফাঁস করছে। ঘরে আর থাকতে ইচ্ছে করছে না। এক দৌড়ে খোলা দরোজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল ও। সোজা গিয়ে হাজির হলো বাগানে। এই বাগানটা ও আর ওর একমাত্র ভাইয়া মুরাদ মিলে গড়ে তুলেছে। অবশ্য ওদের চাহিদামতো বিভিন্ন গাছে জোগান দিয়েছেন আব্বু।

মুনিয়ার প্রিয় গাছ বকুল। বিকালে যখন বাগানে আসে, তখন ওটার নিচেয় বসে। বকুল গাছটার নিচে আব্বু ওদের বসার সুবিধার্থে ইট দিয়ে গেথে পাঁকা করে দিয়েছেন।

মুনিয়া এসে ধপাস করে বসে পড়ল। কিন্তু গাছের পাতাগুলো একটুও নড়ছে না। বাতাস বইছে না তেমন। একদৃষ্টে গাছের পাতার দিকে তাকিয়ে রইল মুনিয়া। মাসখানেক হয়েছে, বকুল গাছটায় দুটো টুনটুনি মিলে একটা বাসা বেঁধেছে। বাসায় বোধহয় বাচ্চাও ফুটেছে। চিউচিউ করে ডাকছে। বাচ্চাগুলোর ঠোঁটও যেন দেখতে পাচ্ছে ও। ওদের বাবা-মা নিশ্চয়ই খাবারের সন্ধানে গেছে। মুনিয়ার খুব মায়া করছে। বাচ্চাগুলোর অমন ডাকাডাকি যে খাবারের জন্য, তা বুঝতেই পারছে ও। তাই অনেক কষ্ট লাগছে। ‘ইশ্! ওদের বাবা-মা কেন যে এখনো আসছে না খাবার নিয়ে!’ মনে মনে বলে মুনিয়া। একটা জিনিস ভেবে অবাক হয় মুনিয়া, পাখিরা সকালে খালি পেটে বের হয় খাবারের সন্ধানে। দূর থেকে দূরান্তে উড়ে যায় ওরা। নিজেরা পেট পুরে খেয়ে বাসায় বাচ্চাদের জন্য মুখে করে খাবার আনে। তারপর সেগুলো কত যতœ করে ওদের বাচ্চাদের খাওয়ায়। পাশের বাতাবী লেবু গাছে হলুদ পাখির একটা বাসা ছিল। ওদেরকে মুনিয়া এসব করতে দেখেছে। মুগ্ধ হয়ে যেত ও পাখিদের নানান বিষয়-আশয় দেখে। কিন্তু একদিন পাখি দুটো তাদের ছানাপোনা নিয়ে চলে গেল। আর ফিরে এলো না।

‘আল্লাহ, ওদের বাবা-মাকে তুমি দ্রুত ওদের কাছে নিয়ে এসো।’ মনে মনে আল্লাহকে বলল মুনিয়া।

তারপর মুখটা নিচে নামাল।

গরম যেন আরও বেশি লাগছে। বিকাল তো হয়েই গেছে, অথচ গরমের মাত্রা মনে হচ্ছে সারাদিনের তুলনায় এখন বেশিই।

জামাটা লেপ্টে গেছে ওর গায়ের সাথে। পিলপিল করে ঘামছে ও।

রাহাকে আসতে দেখল ওর দিকে। তাই এই কষ্টের মধ্যেও মুখটা খুশিতে ভরে উঠল। দু’জন মিলে খেলা করবে ওরা। তাহলে গরমটা হয়তো ততটা অনুভূত হবে না।

ওর ভাইয়া মুদা কোচিংয়ে গেছে। ফিরবে সন্ধ্যার একটু আগ দিয়ে। স্কুল গরমের ছুটি থাকলেও কোচিং বন্ধ নেই তার।

ভাইয়াটার জন্য বেশ মায়াই হয় মুনিয়ার। ছুটিটা বেশি উপভোগ করতে পারছে না।

‘এ মা!’ মুনিয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বলল রাহা। ‘জামাটা তো তোমার গায়ের সাথে একেবারে লেপ্টে গেছে!’

‘গরমটা তো আমার একটু বেশিই লাগে রাহা, তাই এমনটি হয়েছে।’ বলল মুনিয়া। ‘কেন, তোমার গরম লাগছে না?’

‘হ্যাঁ লাগছে তো! কিন্তু তোমার বোধহয় একটু বেশিই লাগছে।’

‘বাদ দাও ওসব। এসো, আমরা খেলি।’

‘কী খেলবে আজ?’

একটু ভাবল মুনিয়া। তারপর বলল, ‘তুমিই বলো আজ আমরা কী খেলব।’

‘আমরা ধুলো দিয়ে ঘর বানানো খেলতে পারি।’ ‘আচ্ছা ঠিক আছে, আজ আমরা ধুলো দিয়ে ঘর বানানোই খেলব।’ ‘কিন্তু পানি লাগবে তো এই খেলা খেলতে গেলে।’ ‘ঠিক আছে, তুমি অপেক্ষা করো, আমি পানি নিয়ে আসছি।’ বলে বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেল মুনিয়া। একটু পর একটা প্লাস্টিকের মগে করে পানি নিয়ে হাজির হলো। বকুল গাছটার নিচেয় ওরা খেলতে বসল।

রাহা বাগানের কোনা থেকে নিজের কোচরে করে একড়াদা মাটি নিয়ে এলো।

তারপর দু’জন মিলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে কাদা তৈরি করল। এরপর ঘর বানানো শুরু করল। আসলে রাহার বানানো দেখে নিজে বানাচ্ছে মুনিয়া। এবং রাহার চেয়ে ওর বানানোটা ভালো হচ্ছে। ওর বিশ্বাস, যে কেউ দেখলে সেটাই বলবে। হঠাৎ করে মাথার উপরে কিচিরমিচির শব্দগুলো বেড়ে গেল।

মুখ তুলে ওপরে তাকাল মুনিয়া। হ্যাঁ, বাচ্চাগুলোর বাবা-মা ফিরে এসেছে। নিজেদের মুখের থেকে খাবার বের করে খাওয়াচ্ছে প্রিয় ছানাগুলোকে। কাড়াকাড়ি করে খাচ্ছে ওরা। মুনিয়ার মনটা আনন্দে ভরে গেল। আল্লাহ ওর কথা শুনেছেন। বাবা-মাকে দ্রুত এনে দিয়েছেন।

রবের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ওর বুকটা ফুলে উঠল।

জোরে জোরে বাতাস বইছে। ক্রমেই বাড়ছে বাতাসের গতি। আম্মু গলা চড়িয়ে ডাকলেন, ‘মুনিয়া, আম্মুসোনা, ঘরে এসো। মনে হচ্ছে ঝড়বৃষ্টি হবে।’ ‘আসছি আম্মু।’ মুনিয়াও গলা চড়িয়ে বলল। কিছুতেই খেলাটা রেখে যেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু ঝড়বৃষ্টি হলে তো অবশ্যই ঘরে যেতে হবে। আর তাছাড়া মায়ের কথা অমান্য করলে আল্লাহ যে ওর নামে কোনো নেকি লিখবেন না! ওর যে অনেক নেকি লাগবে। জান্নাতের ফুলের বাগানে থাকতে হলে এমন অনেক নেকি ওর দরকার।

‘রাহা, তুমি বরং আমার ঘরে চলো। আমরা ওয়ার্ড মেকিং খেলব।’ রাহাকে প্রস্তাব দিল মুনিয়া। কিন্তু রাহা কোনো জবাব দেয়ার আগেই ঝমঝম করে বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে গেল। তাই ওকে আমর রাজি হতে হলো না। এমনিই মুনিয়ার সাথে ওর ঘরের উদ্দেশে দৌড় দিলো।

ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ভিজে গেল ওরা। একেবারে গোসল হয়ে গেল।

আম্মু ওদের এই অবস্থা দেখে বললেন, ‘এখনি ঘরে ঢুকো না তোমরা। ভিজেই তো গেল, বরং আরেকটু বেশি ভিজে নাও। তাতে একটি সুন্নাত পালন করা হবে তোমাদের। কেননা, বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো সুন্নাত। আমাদের প্রিয় নবীজি বৃষ্টিতে ভিজতেন। বৃষ্টির পানিতে থাকা কিছু উপাদান ও অণুজীবের কারণে শরীরে ভিটামিন বি যোগ হয়। মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। আর বৃষ্টির সময় পরিবেশে যে সুন্দর একটা ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে, তা মানুষকে চনমনে করে তোলে।’ নিজের ভেজা শরীর নিয়ে আম্মুকে জড়িয়ে ধরল মুনিয়া। বলল, ‘এ জন্যই তো তুমি আমার মিষ্টি আম্মু!’

‘এই কী করছ কী করছ!’ বলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলেন আম্মু। ‘ভিজে যাচ্ছি তো আমি!’ কিন্তু ততক্ষণে শাড়ির বেশ খানিকটা অংশ মেয়ে শরীরের পানি লেগে ভিজে গেল।

‘আম্মু সরি।’ নিজেকে সরিয়ে নিয়ে বলল মুনিয়া। মুখটা কেমন গম্ভীর হয়ে গেল।

আম্মু সেটা খেয়াল করে মুখে একরাশ হাসি ফুটিয়ে তুললেন। তা দেখে মুনিয়া বলল, ‘তাহলে চলো না আম্মু, আমরা একসাথেই ভিজি!’

‘হ্যাঁ, আমি তো তোমাদের সাথেই ভিজব আজ!’ ঘোষণা করলেন আম্মু।

মুনিয়ার চেহারাটা দারুণ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আম্মুর আগে আগে বারান্দা থেকে নিচে নেমে এলো। ওর সাথে যোগ দিলেন আম্মু আর যোগ দিল রাহা।

একটু পর খেয়াল করল, দাদুভাইও তার রুম থেকে বেরিয়ে এসেছেন। হাসতে হাসতে নিচে নামছেন। ‘আব্বা আপনিও ভিজবেন নাকি?’ জিজ্ঞেস করলেন আম্মু। ‘কতদিন তো বৃষ্টির পানিতে ভিজি না। আজ তোমাদেরকে ভিজতে দেখে লোভ সামলাতে পারছিনে।’ দাদুভাইয়ের মুখটা চকচক করছে।

মুনিয়ার আজ খুব ভালো লাগছে। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে বেশ লাগছে।

মাটির সোদা গন্ধটা ওর নাকে ঢুকে ছড়িয়ে যাচ্ছে হৃদয়ের ভাঁজে। মনটা দারুণ চনমন করে উঠছে তাতে।

একটুতেই পানি জমে উঠতে লাগল। সেই জমে থাকা পানিতে লাফাচ্ছে মুনিয়া ও রাহা। ছিটকে সেই পানি লাগছে আম্মু ও দাদুর গায়ে। রেগে যাবেন কি, খুশিতে খলবল করে হাসছেন তারা। মেয়ে দুটোর এমন নির্মল আনন্দ যেন উভয়কেই নিজেদের ছেলেবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে গেল। নিজেরাও যেন একেক জন শিশু হয়ে উঠলেন।

মুনিয়া ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেছে। কিন্তু একটুও কাঁদল না ও। রাহা এগিয়ে গেল ওকে তুলতে। মুনিয়া রাহার হাত ধরে উঠে দাঁড়াল।

বাতাসের বয়ে যাওয়া শোঁ শোঁ একটা আওয়াজ তুলছে চারপাশে। এটা ওদেরকে আরো বেশি আলোড়িত করল।