সঞ্জয় ব্যানার্জী দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গবাদিপশুর ক্ষুরা ও লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ক্ষুরা রোগে ৯৬টি এবং লাম্পি স্কিন রোগে তিনটিসহ মোট ৯৯টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় খামারিরা জানায়- দশমিনা সদর, বাঁশবাড়িয়া, বহরমপুর, আলীপুর, রণগোপালদী, বেতাগী সানকিপুর ও চরবোরহান ইউনিয়নের ছোট-বড় খামার এবং গৃহস্থের ঘরে ব্যাপক হারে এ রোগের বিস্তার ঘটেছে। বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া এলাকায় গত দুই সপ্তাহে একটি গর্ভবতী গাভীসহ তিনটি গরু মারা গেছে। এ ছাড়া সপ্তাহের মধ্যে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকায় ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি এবং আলীপুর ইউনিয়নের খলিসাখালী এলাকায় ক্ষুরা ও লাম্পি স্কিন রোগে আরো দু’টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে দুই হাজার ৩৫২টি গরু ক্ষুরা রোগে এবং ৭৩টি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে কেবল বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকাতেই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে দুই শতাধিক গবাদিপশু। দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক হারুন মৃধা জানান, তার খামারে ষাঁড় ও গাভীসহ মোট ৯টি গরুর মধ্যে গত সপ্তাহে ছয়টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে সেগুলোর চিকিৎসা চললেও পশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। একই গ্রামের শহীদ হাওলাদার বলেন, ১৩টি গরুর মধ্যে পাঁচটি ক্ষুরা ও একটি লাম্পি রোগে আক্রান্ত। অসুস্থতার কারণে গাভীগুলো মুখে কিছু খেতে পারছে না। চিকিৎসা চললেও আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, খামারি ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস পালন, প্রশিক্ষণ এবং লিফলেট বিতরণ কর হচ্ছে। খামারিদের আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।



