ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-তে শায়খ আহমাদুল্লাহর সাথে ছবি তোলার কারণে একজন অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান এবং হিজাব-নিকাব পরিধানের কারণে শিক্ষার্থীদের হেনস্থা করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মগেটস্থ গ্রীনরোড ক্যাম্পাসের অ্যাসেম্বলি পয়েন্টে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদ ও কয়েকজন শিক্ষার্থী জুমার নামাজের পর প্রখ্যাত আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ছবি তোলেন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. শমসাদকে শোকজ নোটিশ প্রদান করে। শিক্ষার্থীরা একে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি হিজাব ও নিকাব পরিধানকারী ছাত্রীদের ক্লাসে প্রকাশ্য অপমান, মানসিক নির্যাতন এবং নামাজে বাধা প্রদান করেন। এমনকি নিকাব খুলতে বাধ্য করা এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিং করার মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে, যার ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে জানানো হয়।
৩ দফা দাবি : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন- ১. ধর্মীয় বিদ্বেষ ও শিক্ষার্থী হেনস্থার দায়ে শিক্ষিকা লায়েকা বশীরকে অনতিবিলম্বে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ২. ইসলামবিদ্বেষকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং বিগত সময়ের দাবিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায়ে বর্তমান ভিসি কামরুল আহসানের পদত্যাগ। ৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী প্রতি বছর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাথে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে বৈষম্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি জমশেদ কুতুব পাশা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত জায়গা যেখানে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু ইউএপিতে পরিকল্পিতভাবে ইসলামবিদ্বেষী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, প্রশাসন দ্রুত এসব দাবি মেনে না নিলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।



