সংসদ প্রতিবেদক
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন (৩৫.৫৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (৩০ হাজার ৩২৮ দশমিক ৮১ মিলিয়ন ডলার) চেয়ে এই আয় পাঁচ হাজার ২৬১ মিলিয়ন ডলার বেশি। আলোচ্য সময়ে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রবৃদ্ধি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আসা আয়ের চিত্রে দেখা গেছে বড় পতন।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে এ তথ্য উপস্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
সংসদে জানানো তথ্যানুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪ হাজার ২৬৪ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার এলেও পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলারে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যে থাকা প্রবাসীরা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ১৬৮ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স বেড়ে ৪ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন, ওমান থেকে ২ হাজার ৪৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন এবং ইতালি থেকে ২ হাজার ৫১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, গ্রিস, জর্ডান ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল।
সার্বিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশ থেকে আয় দৃশ্যমানভাবে কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে এসেছে ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের (৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় প্রায় ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে কানাডা থেকে রেমিট্যান্স অর্ধেকে নেমে এসেছে; ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২২০ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে গত অর্থবছরে এসেছে ১১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার। তা ছাড়া মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
এমপি সেলিনা সুলতানা ও নিলোফার চৌধুরী মনির পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর এবং পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর ফিরতি সফরের ফলে অতিদ্রুত দেশটিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সুগম হবে। তিনি আরো জানান, গত অর্থবছরে চাকরির উদ্দেশ্যে মোট ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশী বিদেশে গেছেন। যার মধ্যে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় লাখ চার হাজার ৬৬২ জন গেছেন সৌদি আরবে। এ ছাড়া কাতারে ৮৯ হাজার ২৩, সিঙ্গাপুরে ৭৫ হাজার ৪১, মালদ্বীপে ৪২ হাজার ১৩০ এবং কুয়েতে ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন গেছেন।
এদিকে এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে। সরকার বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও নতুন অভিবাসনের সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।



