মোবাইল অ্যাপে পরিচয়, বন্ধুর টানে বড়াইগ্রামে চীনা নাগরিক

Printed Edition

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের সূত্র ধরে চীনের এক নাগরিক নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার এক স্কুলছাত্রীর বাড়িতে এসেছেন। তিনি বর্তমানে উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চীনা নাগরিক সুবেজ গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ছাত্রীর স্বজনরা তাকে বড়াইগ্রামে নিয়ে আসেন। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় উৎসুক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেন। সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে বা পাসপোর্ট দেখাতে রাজি হননি।

জানা গেছে, চর ভবানীপুর গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১৭) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। কয়েক মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সুবেজের সাথে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সাদিয়ার ভাষ্য, বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই সুবেজ বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সাথে একটি স্মার্টফোন, চকলেটসহ কিছু উপহারও এনেছেন। স্থানীয় খাবার, বিশেষ করে মুরগির গোশত ও চা তার পছন্দ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সুবেজ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বন্ধুর আমন্ত্রণে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। পরিবারের ইচ্ছা হলে তিনি ফিরে যাবেন। তবে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। সাদিয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন বলেন, মেয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি অতিথি হিসেবে সুবেজকে আসার অনুমতি দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই।

জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, বন্ধুত্বের টানে একজন বিদেশী নাগরিক এলাকায় এসেছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পুলিশের জানা রয়েছে। বর্তমানে তার নিরাপত্তাহীনতার কোনো আশঙ্কা নেই। প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।