কলেজশিক্ষকসহ ৩ লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক স্থান থেকে দুই লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে একজন গৃহবধূ।

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর দশমিনায় দীপা দাস (৫১) নামের এক কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। দীপা রানী দাস ওই গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের সহধর্মিণী। তিনি গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া কলেজের শিক্ষিকা এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার হিজল বাড়ি গ্রামের জোগেষ চন্দ্র দাসের মেয়ে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দীপা দাসের ঝুলন্ত লাশ দেখে ডাকচিৎকার দিলে বাড়ি ও এলাকার লোকজন থানায় খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের ছোট বোন রাসমনি দাস জানান, ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে দীপা ও শুভ্র সূচির বিয়ে হয় সেখানে এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দীপকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী।

নিহত দীপা দাসের স্বামী শুভ্র সূচি দাস বলেন, আমি দোকানে ছিলাম তখন আমার ছেলে আমাকে ফোন দেয়। বাবা আমাকে ঘরে ঢুকতে দেয় না। পরে আমার ছেলে ওর দাদুকে নিয়ে পেছন দিয়ে ঘুরে বেলকনি দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। পরে আমাকে ফোন দিলে আমি বাড়িতে এসে দেখি দীপা ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। আমি তাকে শারীরিক বা মানুষিক নির্যাতন করিনি, কেউ বলে থাকলে তা মিথ্যা বলছে। তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের রির্পোট বের হলেই জানতে পারবেন তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জেলার শাহজাদপুর উপজেলার দুই স্থান থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের হাসাখোলা গ্রামের করতোয়া নদীসংলগ্ন স্থান থেকে সবুজ নামের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের রতনকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামে। নিহতের বাবা রহম আলী জানান, গত বুধবার থেকে সবুজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আমরা খবর পেয়ে এসে আমার ছেলেকে চিনতে পেরেছি।

অপরদিকে একই দিনে উপজেলার মশিপুর গ্রামে মিম (২৫) এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, সবুজের বিরুদ্ধে থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে তার সহযোগীরাই হয়তো হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। আর মিমকে হত্যার সন্দেহে তার স্বামী রাসেলকে আটক করা করা হয়েছে। দু’টি লাশই ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।