আলজাজিরা
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চরম রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক দিকে নিজ দেশের ভোটারদের প্রত্যাশার চাপ, অন্য দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভঙ্গুর সম্পর্কের টানাপড়েন -সব মিলিয়ে এক কঠিন সমীকরণের গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছেন তিনি। গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ইসরাইল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে গোলাগুলি বন্ধ হলেও পরিস্থিতি এখনো বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলছে, লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অথচ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহুর জন্য এই পরিস্থিতি এক বড় ধরনের বিপর্যয়। শুরুতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পাশে নিয়ে ইরান ও লেবাননে যে ‘দ্রুত জয়ের’ স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা এখন এক অন্তহীন ব্যয়বহুল যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। অথচ গাজা, লেবানন কিংবা ইরান- কোনো ফ্রন্টেই ইসরাইল প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো শক্তিগুলো এখনো সক্রিয় থাকায় নেতানিয়াহুর দেয়া ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি এখন ভিত্তিহীন বলে গণ্য হচ্ছে।
ইসরাইলি রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে সুদূরপ্রসারী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেতসহ বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহুর দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থানের কড়া সমালোচনা করছেন। বেনেত অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার ইসরাইলের নিরাপত্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার কাছে বন্দী করে ফেলেছে। এ দিকে ইসরাইলের নর্দান বা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যেও নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কিং’স কলেজ লন্ডনের সমরবিদ্যার বিশেষজ্ঞ অ্যারন ব্রেগম্যানের মতে, লেবানন ইসরাইলের জন্য ঐতিহাসিকভাবেই একটি ফাঁদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে ইসরাইল বহুমুখী যুদ্ধের চাপে পিষ্ট, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি। অক্টোবরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর হাতে এখন আর কোনো সফলতার গল্প নেই, বরং দুর্নীতির মামলা আর ব্যর্থ যুদ্ধের বোঝা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে চূড়ান্ত পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।



