নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় ‘আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপ’-এর দ্বিতীয় ধাপ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো ২০২৬। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এবং পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (ঐঊঈ)। এক্সপোতে পাকিস্তানের ২০টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উপস্থাপন করেন।
পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর উদ্যোগটি ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় ঘোষিত হয়। ওই সময় তিনি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি স্কলারশিপের ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী বিনিময় জোরদার করা।
উদ্যোগটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নেতৃত্বের শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়। এক্সপোর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও অধ্যক্ষ, পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং পারস্পরিক অ্যাকাডেমিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করবে। তিনি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপের মাধ্যমে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, প্রথম ধাপের আওতায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা বিনিময় বৃদ্ধি পেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরো শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচি অ্যাকাডেমিক গতিশীলতা, যৌথ গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়াবে।
ঢাকার পর এ ধরনের শিক্ষা এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল (১২ মে), রাজশাহী (১৪ মে), সিলেট (১৭ মে), চট্টগ্রাম (১৮ মে) এবং রংপুরে (২০ মে) ২০২৬ যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান শিক্ষাগত সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়।



