বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের আস্থার সঙ্কট কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির হিসাব সংশোধন ও পুনঃভিত্তিকরণ করার আগে এবার অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, থিংকট্যাংক এবং বিভিন্ন খাতের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যাপক পরামর্শ করবে সংস্থাটি।
বিবিএসের এই উদ্যোগকে দেশের সরকারি পরিসংখ্যান তৈরির প্রচলিত পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এত দিন বড় ধরনের জাতীয় হিসাব সংশোধনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়ায় বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিবিএসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জিডিপি পুনঃভিত্তিকরণের আগে এবার প্রথমবারের মতো একাডেমিক মহলের মতামত নেয়ার বিষয়ে সংস্থাটি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। একই সাথে উৎপাদন ও সেবা খাতের তথ্য যারা সরবরাহ করে, তাদের সাথেও সরাসরি আলোচনা করা হবে।
কেন এই পরিবর্তন
বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামো গত কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। শিল্প, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন ব্যবসা, আর্থিক সেবা, পরিবহন, যোগাযোগসহ অর্থনীতির বহু খাতে নতুন কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে। পুরনো ভিত্তিবছর ও তথ্য কাঠামোতে এসব পরিবর্তনের সবটা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জিডিপি হিসাবের ভিত্তিবছর পরিবর্তনের উদ্দেশ্যই হলো অর্থনীতির বর্তমান কাঠামোকে তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা। কিন্তু ভিত্তিবছর পরিবর্তন কেবল একটি গাণিতিক হিসাব নয়। কোন খাতকে কতটা গুরুত্ব দেয়া হবে, কোন তথ্যকে উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হবে, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির কতটা হিসাবের মধ্যে আসবে এবং উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন কিভাবে পরিমাপ করা হবে- এসব সিদ্ধান্তও এর সাথে জড়িত। বিবিএসের নতুন উদ্যোগের গুরুত্ব এখানেই।
পুরনো পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে একাধিকবার জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন ও জাতীয় হিসাব সংশোধন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে জিডিপির পদ্ধতি, তথ্যের পরিধি এবং ব্যবহৃত অনুমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে সরকারি পরিসংখ্যান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কি না, তথ্য প্রকাশে বিলম্ব কেন হয়, পরিসংখ্যান তৈরির পদ্ধতি কতটা স্বচ্ছ এবং গবেষকরা মূল তথ্য যাচাই করতে পারেন কি না- এসব প্রশ্ন গত কয়েক বছরে আরো জোরালো হয়েছে।
২০২৫ সালে বিবিএসের সক্ষমতা ও তথ্যের মান পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করে। হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটিতে সাবেক বিবিএস মহাপরিচালক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা ছিলেন।
পরবর্তীতে টাস্কফোর্স বিবিএসকে আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থায় রূপান্তরের জন্য ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করে।
শুধু নাম বদল নয়, কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ
টাস্কফোর্স বিবিএসের নাম পরিবর্তন করে স্ট্যাটিস্টিকস বাংলাদেশ বা স্ট্যাটবিডি করার প্রস্তাব দেয়। সংস্থাটির প্রধানকে প্রধান পরিসংখ্যানবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং তার পদমর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়।
এর পাশাপাশি প্রস্তাব করা হয়েছে- উন্মুক্ত তথ্য ও তথ্য প্রকাশ নীতি; আগে থেকেই ঘোষিত প্রকাশনা ক্যালেন্ডার; সব ব্যবহারকারীর জন্য একই সময়ে তথ্য প্রকাশ; পূর্ণ মেটাডাটা ও মেথডলজি প্রকাশ; বড় জরিপের জন্য উপদেষ্টা কমিটি; বার্ষিক স্টেকহোল্ডার কনফারেন্স; মেথডলজি এডভায়জরি কাউন্সিল; প্রশিক্ষণ একাডেমি; উপজেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো; আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা জোরদার করা।
টাস্কফোর্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো- সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে শুধু নতুন প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্বাধীনতা, মান, স্বচ্ছতা, প্রবেশাধিকার ও জবাবদিহি।
‘ডাটা প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ’ বদলানোর প্রশ্ন
সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য প্রকাশ ও শেয়ারিংয়ে অনুচিত হস্তক্ষেপ বিবিএসের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট বাড়িয়েছে। এজন্য নির্দিষ্ট প্রকাশনা ক্যালেন্ডার অনুসরণ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া তথ্য প্রকাশের নীতির কথা বলা হয়েছে। একই সাথে সরকার, গণমাধ্যম, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ নাগরিক- সব ব্যবহারকারীর জন্য সমান প্রবেশাধিকারের কথা বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে তৎকালীন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদও সরকারি পরিসংখ্যানের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বিবিএসের জরিপভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
কাগজের ওপর নির্ভরতা কতটা কমেছে?
সংস্কারের আরেকটি বড় ক্ষেত্র প্রযুক্তি। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিবিএস তখনও প্রায় ৬০ শতাংশ তথ্য কাগজভিত্তিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করছিল। পুরনো পদ্ধতির কারণে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে বিলম্ব এবং তথ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ অবস্থায় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ, ডাটা ব্যবস্থাপনা, সবঃধফধঃধ এবং সরপৎড়ফধঃধ ধপপবংং বাড়ানো সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের জুনে বিবিএস গবেষক, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি মাইক্রো ডাটা এনালাইসিস ল্যাব চালু করেছে। সেখানে অনুমোদিত গবেষকরা নিরাপদ পরিবেশে বেনামি সেনসর ও সার্ভে ডাটা বিশ্লেষণ করতে পারবেন। প্রাথমিক তথ্য সরাসরি বাইরে নেয়া যাবে না; বিশ্লেষণের ফলাফল পর্যালোচনার পর প্রকাশ করা হবে।
বিবিএস ২০২৭ সালের মধ্যে ডাটা স্থানান্তর এবং প্রচার ব্যবস্থা, মাইক্রো ডাটা ক্যাটালগ, মেটাডেটা এবং অনলাইন প্রবেশাধিকার চালুর পরিকল্পনাও জানিয়েছে।
জিডিপি পুনঃভিত্তিকরণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
বর্তমান উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে জিডিপি পুনঃভিত্তিকরণ। অর্থনীতির আকার বা প্রবৃদ্ধির হার নতুন ভিত্তিবছরের কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে ‘অর্থনীতি সত্যিই এত বড় হয়েছে’- এমন অর্থে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। বরং নতুন ভিত্তিবছর অর্থনীতির কাঠামো ও মূল্য সংযোজনকে আরো সাম্প্রতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
এখানেই স্বচ্ছতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কোন কোন খাত যুক্ত হলো, কোন খাতের ওজন বাড়ল বা কমল, নতুন তথ্য কোথা থেকে নেয়া হলো, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির হিসাব কিভাবে করা হলো, মূল্য সূচক কিভাবে নির্ধারিত হলো এবং পুরনো সিরিজের সাথে নতুন সিরিজের পার্থক্য কেন হলো, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ না করলে নতুন হিসাব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
তথ্য সরবরাহকারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ
বিবিএস এবার শুধু বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার পরিকল্পনাই করছে না; উৎপাদন ও সেবা খাতের তথ্য যারা সরবরাহ করে তাদের সাথেও সরাসরি কাজ করতে চায়।
এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কিভাবে উৎপাদন করে, তাদের মূল্য সংযোজন কিভাবে তৈরি হয় এবং কোন ধরনের তথ্য নিয়মিতভাবে পাওয়া যায়, এসব বিষয়ে বিবিএসের ধারণা আরো স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এর পাশাপাশি তথ্য সরবরাহকারীদের তথ্যের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো একটি সরকারি বা বেসরকারি উৎসের তথ্য সরাসরি জাতীয় হিসাবের ভিত্তি হলে সেখানে স্যাম্পলিং ত্রুটি, রিপোর্টিং ত্রুটি, ইভি কভারেজ গ্যাপ তৈরি হতে পারে।
স্বাধীনতা বনাম সরকারি নিয়ন্ত্রণ
পরিসংখ্যান সংস্কারের মূল প্রশ্ন প্রযুক্তি নয়- প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা।
বিবিএস সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান সংস্থা। আবার একই সরকারের নীতি ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নেও বিবিএসের তথ্য ব্যবহৃত হয়। ফলে তথ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যদি প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকে, তাহলে পরিসংখ্যানের ওপর আস্থার সঙ্কট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বিবিএসকে আরো স্বাধীন, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার কথা বলে আসছেন।
২০২৫ সালের টাস্কফোর্সও স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে সংস্কারের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
নতুন উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগে
বিবিএসের বর্তমান উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠক করলেই পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে আসবে না। প্রয়োজন অন্তত পাঁচটি বিষয়- প্রথমত, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি প্রকাশ করতে হবে; দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের সাথে সবঃযড়ফড়ষড়মু ও সবঃধফধঃধ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে; তৃতীয়ত, তথ্য প্রকাশের নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে এবং কোনো পক্ষকে আগাম সুবিধা দেয়া যাবে না; চতুর্থত, গবেষকদের জন্য সরপৎড়ফধঃধ ধপপবংং বাড়াতে হবে, তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে; পঞ্চমত, বিবিএসের প্রশাসনিক ও পেশাগত স্বাধীনতা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও পরিসংখ্যানের পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগত মানদণ্ড পরিবর্তিত না হয়।
শুধু জিডিপি নয়- পুরো পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন
জিডিপি পুনঃভিত্তিকরণকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সংস্কারের পরিধি জাতীয় অর্থনীতির আরো বিস্তৃত তথ্য ব্যবস্থায় নেয়া জরুরি।
মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, আয়-বৈষম্য, কৃষি উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন, শ্রমবাজার, জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়োপযোগী, নির্ভুল ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
কারণ ভুল পরিসংখ্যানের ওপর সঠিক নীতি তৈরি করা সম্ভব নয়।
একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কত, মূল্যস্ফীতি কত, কত মানুষ কর্মহীন, কত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে- এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু অর্থনীতিবিদদের জন্য নয়। বাজেট, সামাজিক নিরাপত্তা, সুদহার, মজুরি, বিনিয়োগ, করনীতি এবং উন্নয়ন প্রকল্প- সবকিছুর সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
নতুন যাত্রায় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বিবিএসের সামনে এখন তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। এক দিকে অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনকে পরিসংখ্যানের মধ্যে যথাযথভাবে ধারণ করতে হবে; অন্য দিকে পুরনো অবিশ্বাসের জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে প্রমাণ করতে হবে যে সরকারি পরিসংখ্যান কোনো সরকারের সাফল্য প্রচারের উপকরণ নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ তথ্যভাণ্ডার।
অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সাথে এবার যে ব্যাপক পরামর্শের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটি যদি কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে সীমাবদ্ধ না থেকে জিডিপি পুনঃভিত্তিকরণ, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, প্রকাশনা এবং মাইক্রো ডাটা এক্সেসের বাস্তব কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হতে পারে।
আর যদি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার পরও পুরনো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, তথ্য প্রকাশে বিলম্ব, পদ্ধতিগত অস্পষ্টতা ও সীমিত তথ্যপ্রবেশাধিকার বহাল থাকে, তাহলে নতুন ভিত্তিবছর কিংবা নতুন প্রযুক্তি- কোনোটিই জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
পরিসংখ্যানের সংস্কার তাই শেষ পর্যন্ত জিডিপির সংখ্যা বদলের প্রকল্প নয়; এটি রাষ্ট্রের তথ্যের ওপর জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রকল্প।



