আবুল কালাম আজাদ শ্রীপুর (গাজীপুর)
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা না যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দুপুরে অসমাপ্ত সড়কের ওপর প্রতীকীভাবে ধানগাছ রোপণ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে থাকায় কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ চললেও নয়নপুর বাজারের ২৬০ মিটার অংশে কাজ থেমে আছে। সড়কের ওপর ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কাদা, কোথাও জমে থাকা পানি চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক ছাড়াও বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এখন স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর রাস্তা ও গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, মাত্র ২৬০ মিটার সড়কের কারণে পুরো এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া ও অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের জানান, প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও আয়, দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের আওতায় ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আর্থিক জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।



