ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবলের চলমান আসরে এএফসির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এখনো আছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে সকারুজদের সামনে আজ আরব দেশ মিসর। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইটি দুই ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির আকর্ষণীয় সংঘর্ষ। এশিয়ান অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করা অস্ট্রেলিয়া শারীরিক সক্ষমতা, গতি এবং দলগত শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত। অন্য দিকে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিসর, যাদের ফুটবলে রয়েছে কারিগরি দক্ষতা, দ্রুত আক্রমণ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা। দুই দলের এই মহারণ বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে ডালাসে।
অস্ট্রেলিয়া বরাবরই পরিশ্রমী ও লড়াকু দল হিসেবে পরিচিত। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তারা সংগঠিত ফুটবল খেলে। প্রয়োজনের মুহূর্তে ফল বের করে আনার সক্ষমতা আছে দলটির। সকারুজদের সবচেয়ে বড় শক্তি শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, উচ্চমাত্রার ফিটনেস এবং ম্যাচজুড়ে একই তীব্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা। সুযোগ পেলেই উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং লম্বা পাসে দ্রুত প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করাই তাদের অন্যতম কৌশল।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র-ই সকারুসদের জন্য গ্রুপ ডি-তে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৬ ও ২০২২ সালে রাউন্ড অফ ১৬-এ পৌঁছে ছিল এবং শেষবার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল এএফসির দলটি।
মিসরের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে চোটের কারণে জ্যাকব ইতালিয়ানো ও ম্যাথিউ লেকিকে ছাড়াই খেলবে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। এ ছাড়া বেশ শক্তিশালী অবস্থায় আছে সকারুসরা। প্রধান কোচ টনি পোপোভিচ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারেন। প্রথম একাদশে থাকছেন সেন্টার-ব্যাক লুকাস হ্যারিংটন। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন নেস্তোরি ইরানকুন্দা। যিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৮টি ম্যাচে ছয়টি গোল করেছেন। পোপোভিচের দলের এই ম্যাচে জয়ী হলে শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হতে হবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের।
অন্য দিকে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়ামের পেছনে থেকে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে জায়গা মিসরের। তিনটি ম্যাচ থেকে পাঁচ পয়েন্ট তুলে নিয়ে তারা শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে। হোসাম হাসানের দল বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করে এবং প্রতিযোগিতায় তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল ৩-১ গোলে জয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে এবং গোল পার্থক্যে বেলজিয়ামের কাছে শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয় আরব দেশটির।
‘ফারাওরা’ ১৯৩৪ সালের পর থেকে কোনো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে পারেনি। এই নিয়ে মাত্র চতুর্থবারের মতো জাতীয় দলটি মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে মিসর তাদের তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল, তাই এই প্রতিযোগিতাটি এখন পর্যন্ত একটি বড় ইতিবাচক দিক এবং শেষ ষোলোতে পৌঁছানো হবে চমৎকার অর্জন।
মিসরের হয়ে খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে মোহাম্মদ সালাহ (হ্যামস্ট্রিং), হামদি ফাথি (কুঁচকি), হোসাম আবদেলমাগিদ (মাথা), মোহাম্মদ আবদেলমোনেম (গোড়ালি) এবং আহমেদ এল ফুতুহ (হ্যামস্ট্রিং)। তবে আশা করা হচ্ছে, সালাহ ইরানের বিপক্ষে পাওয়া হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা কাটিয়ে এই ম্যাচে শুরুর একাদশেই মাঠে নামতে পারবেন। তবে দলে পাবে না মোহানাদ লাশিনকে। কারণ ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় একটি গুরুত্বপূর্ণ হলুদ কার্ড পেয়েছেন।
দুই দলের শক্তির পার্থক্য খুব বেশি নয়। অস্ট্রেলিয়া দলগত শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতার কারণে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে মিসরের গতি, কারিগরি দক্ষতা এবং আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা তাদের সমান ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ। ফলে এই ম্যাচে নির্দিষ্ট কোনো দলকে স্পষ্ট ফেবারিট বলা কঠিন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি হবে মাত্র দ্বিতীয়বার মুখোমুখি সাক্ষাৎ মিসরের। দল দু’টির আগের লড়াইয়ে ২০১০ সালের নভেম্বর প্রীতিম্যাচে মিসর ৩-০ গোলে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে।



