সারা দেশে ৬ হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোনের পরিকল্পনা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ছয় হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর্কিটেকচার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এত বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন, অংশীজন নির্বাচন ও সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামোর বিষয়ে এখনো বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হয়নি। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির স্থপতি শামসুন্নাহার মুন্নি।

তিনি বলেন, ছয় হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোনকে শুধু একটি প্রকল্প হিসেবে নয়, স্থানীয় অর্থনীতির একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা স্থানীয়ভাবেই উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান শক্তিশালী হবে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি জোনে কোল্ড স্টোরেজ, এয়ারফ্লো স্টোরেজ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, শুকানোর ইউনিট ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আবাসন, উদ্যোক্তাদের কর্মক্ষেত্র, উৎপাদন সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা বিকাশ কেন্দ্র, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিটি জোনে ছোট পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে বায়ুচালিত বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো কম-কার্বন অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

শামসুন্নাহার মুন্নি বলেন, একটি জোনে ১০০ জন উদ্যোক্তা যুক্ত হলে ছয় হাজার জোনে প্রায় ছয় লাখ উদ্যোক্তা সরাসরি যুক্ত হতে পারেন। উদ্যোক্তারা এসব জোনের মালিকানায় অংশ নেবেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকায় সরেজমিন জরিপের ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চান তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ তহবিল থেকে অর্থায়নের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শামসুন্নাহার মুন্নি জানান, প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন ও জীবিকার বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পনাটির ধারণা তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি দরিদ্র পরিবারের বাড়ি নির্মাণে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেও এ উদ্যোগের ধারণা এসেছে বলে জানান তিনি।