আলোচনা সভায় অভিমত

নিকৃষ্ট স্বৈরশাসন ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান হয় না

Printed Edition
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল নাকি বেহাত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল নাকি বেহাত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা ও স্বৈরাচারের পতনই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। তিনি বলেন, ‘খুবই নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান হয় না। আমরা সব দিক থেকে নিকৃষ্ট শাসন ও স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি- ছাত্র-জনতার জন্য এর চেয়ে বড় সফলতা আর কী হতে পারে। তবে জুলাইয়ে সংঘটিত অপরাধের বিচার না হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।’

গতকাল বৃস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নীতি গবেষণা কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সফল নাকি হাতছাড়া?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শারকিক আহমেদ। সূচনা বক্তব্য দেন সংস্থাটির রিসার্চ ফেলো ড. খান শফীকুজ্জামান। সভায় শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তরুণ নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিজেই একটি বড় সাফল্য। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এরপরও তিনি আশাবাদ ধরে রাখার আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্বিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, জুলাইয়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মেধার মূল্যায়ন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হয়নি এবং বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রেও সঙ্কট রয়ে গেছে। তাই তিনি এই বিপ্লবকে এখনো অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার বলেন, কোনো আন্দোলনের প্রকৃত মূল্যায়ন সময়ের সাথে হয়। তার মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিচারে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আগের আন্দোলনগুলোর তুলনায় সফলতার দিকেই এগোচ্ছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রাগীব নাঈম বলেন, জুলাই ছিল কেবল সরকার পতনের আন্দোলন নয়; এটি ছিল একটি গণ-অভ্যুত্থান। তবে পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ও জবাবদিহিতার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক আরিফ সোহেল বলেন, ক্ষমতা কোনো একটি পক্ষের হাতে কেন্দ্রীভূত হলে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি দাবি করেন, যারা জীবন ও রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ পাহলোভি বলেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান। তার মতে, সময়ের সাথে মানুষ এর তাৎপর্য আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর‌্যায়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ঈসা ইবনে দেলোয়ার।