এএফপি ও রয়টার্স
হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তুষারধস ও পর্বত ধসে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী ঢলকে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বেইজিং-কাঠমান্ডু সীমান্তে আকস্মিক এই ধ্বংসলীলায় দু’টি দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০ জনের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে বিপুল বৈশ্বিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে নেমে আসা এই পানির তোড় স্বাভাবিক কোনো প্লাবন নয়; এটি ছিল হিমালয় অঞ্চলে জমা বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের সরাসরি ফল। নগণ্য পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন করেও তিন কোটি মানুষের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এই দেশটি এখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মারাত্মক শিকার। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দরুন সৃষ্ট এমন ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক দরবারে নেপালের ন্যায়সঙ্গত দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ১৮৯ কোটি মানুষ পানির জন্য যাঁর ওপর নির্ভরশীল, সেই হিমালয়ের গলে যাওয়া প্রসঙ্গে এর আগে ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়া’র হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। অন্য দিকে, এই দুর্যোগের আগে বেইজিংয়ের নিকট আগাম সঙ্কেত চেয়েও কাক্সিক্ষত সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সীমান্তপারের দুর্যোগ মোকাবেলা এবং হিমবাহ পর্যবেক্ষণ সহজতর করতে গত ২৭ মে কাঠমান্ডুতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে যৌথ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সীমান্ত লাগোয়া এলাকার ভৌগোলিক পরিবর্তন ও পানির স্তরের রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহের তাগিদ দেয় নেপাল। তবে নেপালি বিশেষজ্ঞ সৌহার্দ্য যোশি ও বিনোদ পরাজুলি প্রকাশ করেছেন, কাঠমান্ডুর সেই আবেদনে নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের আইনগত এখতিয়ার না থাকার অজুহাত দেখিয়েছিল চীনা প্রতিনিধি দল। যদিও নেপালে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়েই আবহাওয়া সতর্কবার্তা বিনিময় করা হয়েছিল।
সঠিক তথ্যের ঘাটতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় সতর্কীকরণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গত বুধবার তিব্বত সীমান্তচৌকিতে ঢল আঘাত হানার সময় নেপালের নিজস্ব কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পানির স্রোতে ভেসে যায়। সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরত্বের প্রবাহের মুখে নেপালি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে সকাল ৯টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত সময় পার করে ফেলে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের তথ্যমতে, প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট পানির শক্তিশালী প্লাবনে হিমালয়কন্যা দেশটির ১৯টি সেতু, ৪০ কিলোমিটার প্রধান সড়ক এবং ১০ শতাংশের বেশি জাতীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে প্রাণহানি এড়াতে প্রতিবেশী ভারতের মতো চীনের সাথেও প্রতি ১০ মিনিট পরপর চরম আবহাওয়া ও নদীর পানির স্তরের আপডেট পেতে যৌথ ডেটা চুক্তি করার পরিকল্পনা করছে কাঠমান্ডু।



