বিশ্ব ফুটবলে শাকিরা : জড়িয়ে আছে বাংলাদেশও

Printed Edition
বিশ্ব ফুটবলে শাকিরা : জড়িয়ে আছে বাংলাদেশও
বিশ্ব ফুটবলে শাকিরা : জড়িয়ে আছে বাংলাদেশও

কাজিম রেজা

গ্রেট শো অন আর্থে শাকিরার কণ্ঠে ২০১০ সালে ছিল ‘ওয়াকা ওয়াকা আফ্রিকা’। ২০২৬ সালে শোনা যায় থিম সং ‘দাই দাই’, ‘ওলে ওলে’। কোনোটিই অর্থহীন নয়। ২০১০ সালে আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত ক্যামেরুনের ফ্যাং ভাষাভাষীদের মধ্যে প্রচলিত ‘ওয়াকা ওয়াকা’ বেছে নেন- ‘ওয়াকা ওয়াকা আফ্রিকা’। ওকা মানে ‘এটা কর’, ‘সামনে বাড়’, ‘এগোও’। ‘দাই দাই’ ইতালীয় শব্দ ‘চলো যাই’। ‘ওলে ওলে’ স্পেনীয় শব্দ। এই শব্দ তেজধর্মী। এটা মানুষকে উদ্দীপ্ত করার জন্য বিজয় বোঝাতেও ‘ওলে ওলে’ সমস্বরে অজস্র মানুষ বলে থাকে। ‘দাই দাই’ সঙ্গীতে শাকিরাই প্রধান। বর্নো বয় সহযোগী। প্রয়োজনীয় কোরাস বিশাল জনগোষ্ঠীর উচ্ছ্বসিত অভিব্যক্তির মধ্যে প্রচারিত হয়েছে।

সঙ্গীতশিল্পী বর্নো বয়ের সাথে শাকিরা যুগলবন্দী পরিবেশনায় গাইলেন ফ্রম টোকিওই ঢাকা, ফ্রম মিউলি টু মেক্সিকো। পর্যায়ক্রমের সুরেলা পঙ্ক্তিমালায় টিভি, সরাসরি রেডিওর সামনে দাঁড়ানো, বসা কোটি কোটি মানুষকে শোনালেন। ‘দিস ই এ ফায়ার, টেকদি ওয়ার্ল্ড, হাইয়ার অ্যান্ড হাইয়ার শাকিরার নামটি আরবি থেকে উদ্ভূত। সব কিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপের সমাপনী মঞ্চেও থাকবেন এই শিল্পী।

ঢাকা-বাংলাদেশের সাথে জড়িয়ে আছে শাকিরার নামও। ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী সিডরের পরে ইউনিসেফেরে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সফর করেন। ১৬ ডিসেম্বর দুই দিনের জন্য উপদ্রুত অঞ্চল সফর শেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত তিন হাজার স্কুল নির্মাণে সারা দুনিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। সিডরে বাংলাদেশের দুই লাখ মানুষ প্রাণ হারান। শাকিরা খুব দ্রুতই সব চেয়ে দুর্গত এলাকা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সফর করেন। তিনি রাজশাহী জেলার ইউনিসেফ পরিচালিত প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখেন। তুফানে সদ্য এতিম হওয়া শিশুদের সাথে মিলিত হন।

নিপা নামে ১১ বছরের এক এতিম শিশু শাকিরাকে একটি পল্লীগীতিও গেয়ে শোনান। বিশ্বকাঁপানো সঙ্গীতশিল্পী ভাবাবেগে বলেন, তোমার কণ্ঠ আমার চিরদিন মনে থাকবে। ঢাকায় অন্যান্য কাজের মধ্যে দর্শনার্থীদের সাথে সানন্দে ছবি তোলেন। রয়টার্সের সাবেক ছবি ফটো সাংবাদিক রফিকুর রহমান বলেন, আমি ভুলতে পারব না, এত বড় শিল্পীর কী সহজ আচরণ। তার চোখের দৃষ্টিতে ছিল আশ্চর্য ও কোমলতা। সেলফিও তোলার অনুমতি দেন। এক কথায়, যারা ছিল তাদেরও ডেকে নেন ছবি তুলতে।

শুধু কি শাকিরা। বিখ্যাত অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করন। ১৮-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী এই সফর শেষে ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অগ্রগতি হবেই। কেননা দুঃখকষ্টের মধ্যে থেকেই এদের হাসি অমলিন থাকে। মেহমান দেখলে আপ্লুত হয়। আমি এদেশ থেকে তাদের দুঃখ বিজয়ী হাসি নিয়ে যাচ্ছি। প্রশ্নোত্তরের শুরুতে এক মহিলা সাংবাদিক তাকে যথোচিত সম্বোধন শুরু করেছিলেন। অড্রে তাকে থামিয়ে বললেন, ‘কল মি অড্রে’।

শাকিরা নামের মূলগত অর্থ, কৃতজ্ঞতা যা আরবিতে শুকরান, শুকরা বলা হয়। ল্যাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ার নাগরিক সাকিরা সাতটি ভাষায় পারদর্শী। গুগল জানায়, মাতৃভাষা স্প্যানিশ। জানেন, ইংরেজি পর্তুগিজ, ইতালীয়, ফরাসি আরবি কাটলান। স্পেনের বার্সোলনায় দীর্ঘদিন বসবাসের সুবাদে তিনি কাটালান ভাষা শেখেন। ৪৯ বছর বয়সী এই শিল্পী লেবাননী বংশোদ্ভূত।