নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এমন পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানো, ট্রেড লাইসেন্সসহ সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়ায় অটোমেশন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস, এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউ ধানমন্ডি কনভেনশন হলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এ দাবি তুলে করেন। ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকার ১৫টি ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এবং প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল এবং পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল কর কাঠামোর ঘোষণা ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে উচ্চ রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সঙ্কুচিত করছে, যা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মাহমুদুন নবী বলেন, ডলার সঙ্কট ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে এলসি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। একই সাথে উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও কাক্সিক্ষত মাত্রায় কমছে না, যা উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আমদানি ব্যয় কমাতে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে কার্যকর আলোচনা জোরদারেরও পরামর্শ দেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, ট্রেড লাইসেন্সসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবা গ্রহণে হয়রানি কমাতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় কমবে।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার (পশ্চিম) অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অস্থিরতা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তবে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব নুসরাত ফারজানা বলেন, রাজস্ব আহরণ এবং কর প্রণোদনা- উভয়ই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণে এনবিআর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, অর্থ আইন-২০২৬ এর আওতায় ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার সুফল দ্রুতই উদ্যোক্তারা পাবেন।



