সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
সুন্দরবনে আবারো বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত বন বিভাগের এক বেতারচালকসহ তিনজন তিন দিন পর মুক্তি পেয়েছেন। অন্য দিকে পশ্চিম সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলে ১১ দিন জিম্মি থাকার পর ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতারচালক ফরিদুল ইসলাম গত ৯ জুন পাথরঘাটা থেকে দুবলায় কর্মস্থলে ফেরার পথে ট্রলারে সুন্দরবনের কালামিয়া এলাকা অতিক্রম করছিলেন। বিকেলে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ট্রলারে হামলা চালিয়ে ফরিদুল ইসলাম, ট্রলারচালক তোফাজ্জেল সরদার ও তার সহকারী আলকাসকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, বনকর্মী পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দস্যুরা তাদের কাছে কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি। তবে অপহরণের ঘটনায় বন বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্য দিকে পশ্চিম সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে পড়া সাতীরার শ্যামনগর উপজেলার চার জেলে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। তারা হলেন কুলতলী গ্রামের শাহাজান খাঁ ও ইয়াছিন খাঁ, হরিনগর গ্রামের শাহাজান আলী এবং শরিফুল ইসলাম।
পরে জেলেদের স্বজন ও মহাজনদের সাথে দরকষাকষির মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলেও সাথে সাথে মুক্তি দেয়া হয়নি। কয়েক দিন জিম্মি করে রাখার পর বৃহস্পতিবার ভোরে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের একটি খালে তাদের রেখে যায় দস্যুরা। পরে স্বজনরা নৌকাযোগে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনে বনদস্যুদের পুনরুত্থান জেলে ও বনকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং দস্যু দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



