কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত সৌদি আরব সফর কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীরতর করার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পক্ষ থেকে সৌদি আরব সফরের একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। সৌদি যুবরাজ একই সাথে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাক্ষাতের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপদেষ্টা জানান, ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ভালো। আমরা সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের বিষয়ে খুবই আশাবাদী। শীর্ষ পর্যায়ের সফর বিনিময়ে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। কারণ উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি সরকার ও বেসরকারি খাতের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ এবং সৌদি যুবরাজের বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ এই সম্পর্কের প্রতি উভয় পক্ষের গুরুত্বকে তুলে ধরে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দুই সরকারের মধ্যে আলোচনায় সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই দু’টি দেশের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব বাংলাদেশের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গত চার মাসে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শক্তিশালী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রীর আমাকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিশেষ দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। এটি এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সাথে ব্যাপক সদ্ভাব তৈরি করেছে। এই সৌহার্দ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব তাদের কৌশলগত যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করবে।



