স্বাগতিকদের হেসেখেলে হোয়াইটওয়াশ করল অস্ট্রেলিয়া

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আগেই সিরিজ হাতছাড়া করা বাংলাদেশের সামনে আজ একমাত্র লক্ষ্য ছিল ধবলধোলাই এড়ানো। তবে ভাগ্য বদলাতে পারেনি স্বাগতিকরা। বলতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ন্যূনতম লড়াইও করতে পারেনি তৌহিদ হৃদয়ের দল। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১০৯ রান করে স্বাগতিক শিবির। জবাবে ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ১১২ রান করে সফরকারীরা। তাতে বাংলাদেশের হার ৭ উইকেটে।

প্রথম দুই টি-২০ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিল মিচেল মার্শের দল। ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-২০ সিরিজের সবগুলো ম্যাচ জিতে টাইগারদের বিপক্ষে রীতিমতো প্রতিশোধ নিলো অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সফরে বাজে শুরুর পর দারুণ স্মৃতি নিয়ে ফিরছে অতিথিরা।

প্রথম টি-২০তে ১৩১ রানের পুঁজি নিয়ে ৪ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৬ রানের জবাবে টাইগারদের ইনিংস থামে ১৮৯ রানে। এক ম্যাচ পরই আবার সেই চেনা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগতে হলো। এ যাত্রায় মাত্র ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি হৃদয় বাহিনী। অধিনায়ক ব্যাট হাতে না দাঁড়ালে তো বড় ধরনের লজ্জাই পেতে হতো বাংলাদেশকে। ইনিংসে অধিনায়কের অবদান ৬১ রান। তিনটি করে চার ও ছক্কায় সাজানো তার ৫১ বলের ইনিংস। পুরো টিমের অবদান ১০৯ রান। সেখানে অধিনায়ক হৃদয়ের ৬১ রান।

১৬ রান করেন রিশাদ। বাকিরা প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন টেলিফোন ডিজিটে। বাংলাদেশকে অল্প রানে থামানোর মূল নায়ক স্পেনসার জনসন। চার ওভারে মাত্র ৬ রান খরচায় তার শিকার ২ উইকেট। সমান দু’টি করে উইকেট নিতে নাথান এলিস ২১ ও অ্যাডাম জাম্পা দেন ২২ রান খরচ করেন। বাংলাদেশের ইনিংসের পরই ম্যাচের ভবিষ্যৎ এক রকম নির্ধারণ হয়ে যায়। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে আনুষ্ঠিকতা সারেন মার্শ। যে পিচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খাবি খেয়েছে, সে পিচেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ম্যাচটা জিতে নিয়েছে মাত্র ১১ ওভারেই।

দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে মার্শ যখন ফিরছিলেন, তখন এই ওপেনার নামের পাশে শোভা পাচ্ছিল ৬০ রানের ইনিংস। ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো তার ২১৪ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস। যেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের দেখালেন, টি-২০তে এভাবেই ব্যাট চালাতে হয়। অধিনায়ক ব্যাটিং তাণ্ডব চালানোয় অন্যদের ওপর কোনো চাপই ছিল না। ইংলিস ১৭ ও কুপার কনোলি এনে দেন ১৫ রান। টিম ডেভিড ১২ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। শরীফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার পতন হওয়া উইকেট তিনটি ভাগাভাগি করে নেন।