মাদারীপুর প্রতিনিধি
ইউরোপের স্বপ্ন শেষ হলো লিবিয়ার বন্দিশালায়। দালালের নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন মাদারীপুরের দুই যুবক ফারুক হাওলাদার ও ইলিয়াস হাওলাদার। মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত দালালচক্র এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে এখন ভারী মাদারীপুরের ডাসার ও কালকিনি উপজেলার বাতাস।
নিহত ফারুক হাওলাদার ডাসার উপজেলার বিনতিলুক এলাকার বাসিন্দা। চার মাস আগে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। দালাল হাবিবুর রহমান খন্দকারের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া পৌঁছালে তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণ হিসেবে ১২ লাখ টাকা দেয়ার পরও ফারুকের ওপর নির্যাতন থামেনি। আরো টাকার দাবিতে চলা অমানুষিক নির্যাতনে লিবিয়ার ওই বন্দিশালায় ফারুকের মৃত্যু হয়।
একইভাবে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন কালকিনির দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের ইলিয়াস হাওলাদার। মাফিয়াদের হাতে বন্দী ইলিয়াসকে ছাড়াতে কয়েক দফায় ২০ লাখ টাকা দিয়েছিল তার পরিবার। গত রোববার লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। নিহত দুই যুবকেরই ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফারুকের স্ত্রী লাবনী আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট দুই সন্তান নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াব? সরকারের কাছে বিচার ও স্বামীর লাশ ফেরত চাই।’
এদিকে ইলিয়াসের বাবা কালাম হাওলাদার জানান, মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর একটি প্রভাবশালী চক্র বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্ত দালাল হাবিবুর রহমান ফোন বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিবিয়ায় দুই যুবকের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি।



