আগামী ৫ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা চূড়ান্ত

আগামী দুই অর্থবছরে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য করদাতাদের কর দিতে হবে না। এর পরের তিন লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, তার পরবর্তী ২০ লাখ টাকা আয়ের জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট টাকার জন্য ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা চূড়ান্ত করেছে সরকার। এই বাস্তবতায় আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে নারী ও সিনিয়র সিটিজেন (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব) : সাধারণ সীমার চেয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা বেশি সুবিধা পাবেন।

একই সাথে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ এই দুই অর্থবছরে ব্যক্তি-শ্রেণীর আয়করমুক্ত সীমা আরো ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে চার লাখে উন্নীত করা হবে। এবং সর্বশেষ ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা আরো ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে সাড়ে চার লাখ টাকা করা হবে; অর্থাৎ যাদের বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা তাদের কোনো আয়কর দিতে হবে না। একই সাথে নারী ও সিনিয়র সিটিজেন (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব) : সাধারণ সীমার চেয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা বেশি সুবিধা পাবেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে এই প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানা গেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বেলা ৩টায় বাজেট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, আগামী দুই অর্থবছরে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য করদাতাদের কর দিতে হবে না। এর পরের তিন লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, তার পরবর্তী ২০ লাখ টাকা আয়ের জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট টাকার জন্য ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা। এর পরের এক লাখ টাকার জন্য ৫ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, পরের পাঁচ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ। এভাবে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের জন্য চার লাখ ২৫ হাজার, প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য পাঁচ লাখ, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা পাঁচ লাখ ২৫ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ হাজার টাকা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’ করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের জন্য চার লাখ, প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য চার লাখ ৭৫, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা পাঁচ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাখা হয়। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই করমুক্ত আয়ের সীমা ঘোষণা করা হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন অনেকে।

এ দিকে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বাজেটে ঘোষণা করেছিল যে, করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। এ পরিবর্তনটি ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা এবং এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়ের ওপর প্রযোজ্য হবে।

সূত্র জানায়, আয়করমুক্ত সীমা নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমানো। যাদের আয় সীমিত, তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ খুব কম থাকে। তাই নির্দিষ্ট একটি আয়ের সীমা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার মাধ্যমে সরকার তাদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতিতে ভোগব্যয়ও বাড়ে।