উপকূলে খাবার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততায় হৃদরোগের ঝুঁকি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে খাবার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণের কারণে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি পাঁচজনে একজন আগামী ১০ বছরের মধ্যে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের এক যৌথ গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদ। তিনি জানান, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১৭২টি গ্রামের মোট ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে কয়রার ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনির ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ খাবার পানির উৎসে ক্ষতিকর মাত্রায় লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত লবণ পানের ফলে সৃষ্ট উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা বাড়াচ্ছে। দুই উপজেলার ৪০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জন মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, সার্বিকভাবে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। জাতীয় পর্যায়ে এই বয়সীদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হলেও উপকূলীয় এলাকায় তা দ্বিগুণেরও বেশি।

সেমিনারে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বাটলার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের পর ভূগর্ভস্থ ও পুকুরের পানির লবণাক্ততা কমাতে দ্রুত তা পরিষ্কার এবং উঁচু বাঁধ নির্মাণের তাগিদ দেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য লবণাক্ততা একটি বড় জাতীয় স্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থানকে যুক্তিযুক্ত করতে সহায়তা করবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: লুৎফর রহমান, আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।