হোলী আর্টিজানে নিহতদের স্মৃতি ঘৃণার বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখায় : শামা ওবায়েদ

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আমরা শুধু তাদের স্মৃতির প্রতি নয়, পরিবারগুলোর সাহস, সহনশীলতা ও ঐক্যের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। একজন মা ও অভিভাবক হিসেবে সন্তান ও সদস্য হারানো পরিবারগুলোর প্রতি আমার হৃদয়ের গভীর সহমর্মিতা রইল। তাদের স্মৃতি ঘৃণা ও সঙ্ঘাতের বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখায়। মানবতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার মূল্যবোধ আমরা যেন সব সময় ধরে রাখি।

সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোলি আর্টিসান বেকারিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের শক্তির কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না।

গতকাল ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বাসভবনে এই আয়োজন করা হয়। এতে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত আলবার্ট সিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং ঘটনায় নিহত ইতালি, জাপান ও বাংলাদেশীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যায় পাঁচ বন্দুকধারী হোলি আর্টিসান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ২২ দেশী-বিদেশী নাগরিককে হত্যা করে। তাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, দুইজন বাংলাদেশী, একজন ভারতীয় এবং একজন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরবর্তী সময়ে সেনা অভিযানে হামলাকারী পাঁচ বন্দুকধারী নিহত হয়। অনুষ্ঠানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে অনুষ্ঠানস্থলে একটি নামফলকের সামনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।