রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষা উদযাপন

Printed Edition
রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষা উদযাপন
রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষা উদযাপন

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

মেঘ গুড় গুড় শ্রাবণের সকালে আয়োজনটি ঘিরে চারুকলায় উৎসবের ধুম লাগে। বকুলতলার সামনে লোকে লোকারণ্য, বসার জায়গা না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠাসা ভিড়ের মধ্যে অনেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। কখনো রবীন্দ্রসঙ্গীত, কখনো নজরুলসঙ্গীত, কখনো লোকসঙ্গীত, একের পর এক বর্ষার গানে নাচ পরিবেশন করেছেন শিল্পীরা। এভাবেই রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষা উদযাপন করেন নগরবাসী।

গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ‘ঘনঘটা ২’ শীর্ষক নৃত্য উৎসব আয়োজন করে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি ও চারুকলা অনুষদ।

এতে মেঘের ঘনঘটার মধ্যে বকুলতলায় মানুষের ঢল নামে। কেউ পরিবার, কেউ বন্ধু, কেউবা সঙ্গীকে নিয়ে নাচের তালে বর্ষা উদযাপনে আসেন। নারীরা শাড়ি আর পুরুষেরা পাঞ্জাবি সাদা, সবুজ ও নীলে বর্ষার আবহে সেজেছিল চারুকলা।

অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি ও চারুকলা অনুষদের যৌথ প্রযোজনায় খোলা আকাশের নিচে এই বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেন তিন থেকে ৭০ বছর বয়সী তিন শতাধিক শিল্পী

‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন শিল্পীরা। এ সময় দর্শকরা শিল্পীদের করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান। এরপর ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদলদিনে’, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’, ‘এসো শ্যামল সুন্দর’, ‘রুম্ ঝুম্’, ‘মোর ভাবনারে কী হাওয়ায় মাতালো’সহ ১৬টি গানে নাচ পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

‘আমরা সবাই রাজা’ দিয়ে পরিবেশনা শেষ করেন অর্থী আহমেদরা।

আয়োজক অর্থী আহমেদ বলেন, ‘ঘনঘটা শুধু একটি নৃত্য প্রযোজনা নয়, বরং এটি নতুন করে শুরু করার উৎসব, যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আর মনের ভেতরে চেপে রাখা স্বপ্নকে ডানা মেলতে দেয়া হয়।

উৎসবটি কেবল বর্ষা উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। উৎসবে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় তহবিলও সংগ্রহ করা হয়। উৎসবে জাগো ফাউন্ডেশনের বুথ ছিল, সেখানে দর্শকরা সহায়তার অর্থ জমা দিয়েছেন।