গভর্নরকে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতির জরুরি চিঠি

ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি-চার্জ বৃদ্ধি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আমানতকারীদের সঞ্চয় প্রবণতাকে ধ্বংস করবে

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ব্যাংকিং সেবার ওপর নতুন করে কোনো ফি আরোপ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন চার্জ না বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানকে গতকাল জরুরি চিঠি দিয়েছেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) কর্তৃক ব্যাংকিং সেবার ১৪টি খাতে নতুন ফি আরোপ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গভর্নরের কাছে পাঠানো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ চিঠি দিয়েছেন।

চেম্বার সভাপতি চিঠিতে উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে, এ জাতীয় প্রস্তাবনার দ্বারা অপ্রয়োজনীয় খরচকে বাধ্যতামূলক করে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে কেবলমাত্র ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একতরফা মুনাফা বাড়ানো সম্ভব হলেও এতে করে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস আরো বাড়বে।

জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনয়নে ও কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমাতে হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা; একক গ্রাহক ও বৃহৎ ঋণ এক্সপোজার সংক্রান্ত নীতিমালায় সাময়িক শিথিলতা; এলসি ছাড়া সরাসরি আমদানি করা এবং সুদের ‘স্প্রেড’ এর সর্বোচ্চ সীমা ৪% নির্ধারণ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী সমাজের কাছে ইতোমধ্যে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। সরকারের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী যখন দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতি নতুন করে গতিশীলতা অর্জন করতে যাচ্ছে, এমন সময়ে এ জাতীয় নতুন ফি আরোপ ও চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব এই অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। যা একইসাথে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সরকারের উদ্যোগ ও গৃহীত সিদ্ধান্তও ব্যাহত করবে।

তিনি এবিবি কর্তৃক এলসি আবেদনে ১০০ টাকা, বৈদেশিক এলসি প্রসেসিং-এ ২০ ডলার, স্থানীয় এলসি প্রসেসিং-এ এক হাজার টাকা, এলসি সত্যায়নের জন্য এক হাজার টাকা, সক্রিয় এলসি বাতিলের জন্য ৫০০ টাকা ও ব্যালেন্স কনফারমেশনে ৩০০ টাকা, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি বাড়িয়ে ২%, পুনঃতফসিলে ১% এবং অগ্রিম ঋণ নিষ্পত্তি ফি বাড়িয়ে ২% করা, বায়ার্স ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় ১%, করপোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্স ডিল স্ট্রাকচারিংয়ের ওপর ১% চার্জ ও অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ ১% ফি আরোপ করার যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে স্প্রেড কমানোর কোনো সুফল তো আসবে না; বরং নতুন বিনিয়োগ ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা আরো হ্রাস ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

চেম্বার সভাপতি মাসে নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ৪র্থ থেকে ১০ম বার পর্যন্ত ১০০ টাকা এবং এর পরবর্তীতে ৩০০ টাকা করে চার্জ আরোপ করা, বিনা চার্জের সঞ্চয়ী গড় স্থিতির সীমা কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকার বেশি স্থিতিতে ৩০০ টাকা ফি কাটার প্রদত্ত প্রস্তাব কার্যকর না করার জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকে অনুরোধ করেন।