ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিপিএলে হুট করে অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এবারের বিপিএলে দুই ম্যাচের পরই নোয়াখালী এক্সপ্রেস বদলে ফেলে অধিনায়ক। সৈকত আলীর পরিবর্তে হায়দার আলীর কাঁধে নেতৃত্বভার তুলে দেয় নোয়াখালী। আর রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের পরিবর্তে দায়িত্ব তুলে দিল লিটন দাসের হাতে।
গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের প্রধান কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা দিচ্ছি যে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে লিটন আমাদের অধিনায়ক। সে জাতীয় দলের অধিনায়ক বিধায় বেছে নেয়া খুব সহজ ছিল। লিটনের খেলার ধরন ও তার আক্রমণাত্মক মানসিকতা খুব পছন্দ করি।’
এবার বিপিএলে প্রথম আট ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহান। তার নেতৃত্বে আট ম্যাচের মধ্যে চারটি করে ম্যাচ জিতেছে ও হেরেছে রংপুর। পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ নয়। ৬ ইনিংস ব্যাটিং করে ১০ গড় ও ৯০.৯ গড়ে করেছেন ৩০ রান। ছন্দে ফিরতেই মূলত সোহান নেতৃত্ব ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন আর্থার। সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের প্রধান কোচ বলেন, ‘রংপুর রাইডার্সের ভেতরের একটা খবর জানাতে চাই। সোহান ক’দিন আগে আমাকে জানিয়েছে যে সে নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগী হতে চায়। দলের জন্য সেরাটা দিতেই অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।’
উইকেটরক্ষক ব্যাটার সোহান বলেন, ‘এখন বিশ্বকাপের চিন্তা মাথায় নেই। যেহেতু একটা ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছি, এখানেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছি। যখন তারা (রংপুরের টিম ম্যানেমজমেন্ট) আমাকে দায়িত্ব (অধিনায়কত্বের দায়িত্ব) দিতে চাইল, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তা গ্রহণ করা ছিল আমার দায়িত্ব। সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি আমি।’
এমন সময়ে লিটন রংপুরের অধিনায়কত্ব পেলেন, যখন তিনি ভুগছেন রানখরায়। এবারের বিপিএলে ৮ ম্যাচে করেছেন ১৬২ রান। গড় ও স্ট্রাইকরেট ২০.২৫ ও ১৩৫। এমন অবস্থায় রংপুরের নেতৃত্ব তার ওপর কি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন না লিটন। ‘না, কোনো বাড়তি চাপ নেই। চেষ্টা করব শতভাগ দেয়ার। এখন পর্যন্ত আমি নিজের ওপর যে আশা রাখি, সবাই যা আশা করেন, সেভাবে করতে পারিনি। কিন্তু কমতি কখনোই ছিল না। চেষ্টা করব এখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে যেন ভালো কিছু দিতে পারি।’



