আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

সাবান চোর কাক

মুকুল হোসেন

নদীর ঘাটে নাইতে নেমে

গায়ে সাবান মাখি

সাবানমাখা শেষ হলে ফের

যতন করে রাখি।

যেই না জলে ডুব দিয়েছি

সাবান আমার নাইরে

কোথায় গেল, কে নিল হায়!

সাবান আমার চাইরে।

সাবান বিনে গোসল হয় না

কী যে করি, হায় রে!

অনেক শখের সাবান আমার

কোন সে পাখি খায় রে।

হঠাৎ দেখি গাছে ডালে

কাকের মুখে সাবান

জলদি করে দে ফিরিয়ে

খেতে দেবো চা-পান।

কাক পাখিটা খুশি মনে

সাবান দিলো ফেলে

সেই সাবান’টি কুড়িয়ে পায়

মাছ শিকারির ছেলে।


জিওগ্রাফি

বাবু হক

চেরাগ আলির গল্প যত

মিথ্যা এবং বানোয়াট

অবিশ্বাসও যায় না করা

তার যে এমন কথার ঠাঁট।

কথায় কথায় এদেশ ওদেশ

এই তো ঘুরে এলাম ভাই

গোটা বিশেক দেশের নামও

তার ঠোঁটস্থ আছে তাই।

তার গল্পে বিভোর দাদু

জানার বেজায় তাড়না

জিওগ্রাফি নিয়ে তবে

আছে আপনার ধারণা!

দাদুর কথায় মাথা চুলকে

চেরাগ আলি বলেন ছাই

অনেকবারই যেতে চেয়েও

ওই দেশটায় যাই নাই ।

দাদু বলেন মুচকি হেসে

এবার ঘুরে আসবেন

জিওগ্রাফি দেশে গিয়ে

লজ্জা পেয়ে হাসবেন।


মেঘনা নদী

শফিকুর রহমান সবুজ

ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাঙে বাড়ি

ভাঙে রাস্তাঘাট

ভাঙে খেতের ফসলি জমি

ভাঙে খেলার মাঠ।

ভেঙেচুরে এক করে দেয়

মেঘনা নদীর জল

বাবার অভাব দেখে মায়ের

ছিঁড়ে যায় আঁচল।

মেঘনা নদীর ছলাৎ ছলাৎ

শব্দ যখন হয়

ছোট্ট খোকা, খুকি তখন

পায় যে ভীষণ ভয়।

ভয়ের কারণ, মেঘনা জলে

বাড়ি ভেসে যায়

তাইতো খোকা, খুকি এখন

মেঘনাকে ভয় পায়।


পুতুল বউয়ের দুল

মমতা মজুমদার

খুকি বসে করছে খেলা

পুতুল বউটা নিয়ে

সোনার নূপুর বাজে যেন

সুরের দোলা দিয়ে।

মাতাল হাওয়া সঙ্গ নিল

উড়ছে মাথার চুল

পড়ে গেল হঠাৎ করে

পুতুল বউয়ের দুল।

কাঁদছে খুকি কেমন করে

দুলটা খুঁজে পাবে

মনের দুঃখে কেঁদে বলে

খেলতে না আর যাবে!

মাকে দৌড়ে বলল খুকি

দুল খুঁজে না পায়

কেমন করে দেবে বিয়ে

মুখটা মলিন হায়।


গরমের হইচই

নুশরাত রুমু

গ্রীষ্ম এসে রুক্ষ বেশে

দিচ্ছে প্রখর তাপ

সূর্য বাবু করল কাবু

কেউ পাবে না মাপ।

ঘামের গন্ধে আঁধার সন্ধ্যা

মশার বাহাদুরি

হরহামেশা রক্তের নেশা

খেলছে লুকোচুরি।

বুড়ো দাদু, সোনা যাদু

মশারিতে ঢোকে

এবার গরম বাড়ছে চরম

অতিষ্ঠ হয় লোকে।

হাতপাখাটা কোথায় রাখা

আন তো খুঁজে, ওরে

বিদ্যুৎ ছাড়া দিশেহারা

ডাকছে বাবা জোরে।


একাল সেকাল

আরজাত হোসেন

এইকালে যা ওয়াশিং মেশিন

সেকালে তা ধোপা

সেকালের যা মোড়ার আসন

এইকালে তা সোফা।

বায়স্কোপের রঙিন ছবি

মেঠোপথের যাত্রা সবই

সেকাল ছিল উদার প্রাণে

কবির ছন্দে রোপা।

সেকাল তুমি এই আমাকে

কত কিছু শেখালে!

জ্যোৎস্না রাতে জোনাকিদের

কীরূপ তুমি দেখালে !

গরুর গাড়ি, মাটির হাড়ি

দুচালা সে কুটির বাড়ি,

এইকালের এক উদাস বিকেল

গোধূলি তা সেকালে।


আগডুম বাগডুম

জাহেদুল ইসলাম বাঁধন

আগডুম বাগডুম

ডিম পাড়ে ঘোড়া

হাতি বাঘ বুনোহাঁস

দেখ চেয়ে তোরা

ডিম পাড়ে ঘোড়া!

শিয়ালের খিলখিল

হাসি দেখে রাগে

ধাস করে লাথি দেয়

তার গালে বাঘে

শিয়ালেও ভাগে!

আগডুম বাগডুম

শিয়ালের কান্না

বুনোহাঁস হাতি বাঘ

করে আজ রান্না।

হা হা হা!

শিয়ালের কান্না!


কানটা চুলের তলে

তোয়াবুর রহমান

কান নিয়েছে চিলে

তাইতো খোকা ছুটছে দেখি

হাঁটু ভাংগার বিলে

উপর হয়ে দৌড়ে গিয়ে

পড়ল খোকা ঝিলে

ভিজল গা জলে

ভেজা গায়ে হাঁটতে দেখে

পাড়ার লোকে বলে

কি রে খোকা কান কি তোমার

ছিল জলের তলে

খোকার গা জ্বলে

সেই লোকেরা বলছে তারে

শুনছ কিসের বলে

চিল নয় কান লুকিয়ে আছে

তোমার ঝাঁকড়া চুলে।