নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সুজন ও কাইলা নবী নামে দুই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় এই সংঘবদ্ধ চক্র ভয়ভীতি সৃষ্টি করে অপরাধ কর্যক্রম চালাচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় সুজনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছে। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কিশোর ও তরুণরা চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিশেষ করে ফুটপাথকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে বিষয়গুলো এলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সুজন ও তার সহযোগীদের প্রভাব আরো বেড়েছে। তাদের দাবি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
বনশ্রীর বাসিন্দা হাবিবের অভিযোগ, সুজনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা চলছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই এলাকার মিজানুর রহমান দীপু বলেন, তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। অপর এক বাসিন্দা রফিকের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার পাশাপাশি সুজন অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথেও প্রতারণা করে সুজন বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। সেই অর্থ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুজনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে শরীফ নামে একজন স্থানীয়ভাবে ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া শিপলু ও টিপু নামে আরো দুই সহযোগীর বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব ব্যক্তিকে ঘিরেই এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া সুজন গোরান নূরবাগ পানি পাম্প এলাকায় এক বেলুন ব্যবসায়ীর নাতির হত্যা মামলার আসামি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ এনেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের পরোক্ষ প্রশ্রয়ে সুজন ও কাইলা নবী দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক কারবারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সুজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি জানান, সুজন ও কাইলা নবী দু’জনই থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থানায় এসেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে যুবদলের খিলগাঁও থানা (মহানগর দক্ষিণ) শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইব্রাহিম হকি বলেন, সুজন ও কাইলা নবীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রভাব বিস্তারে এলাকার সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। এদের অপতৎপরতা বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। একই সাথে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।



