ফাইনালের মঞ্চে ম্যাডোনা-শাকিরা-বিটিএস

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর কোটি মানুষের অপেক্ষা! তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন শুধু ফুটবলের মধ্যেই আটকে থাকছে না। এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরকে আরো বড় এক বৈশ্বিক বিনোদন মঞ্চে রূপ দিতে যাচ্ছে ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান। আর সেই মঞ্চে এক সাথে দেখা যাবে শাকিরা-ম্যাডোনা ও বিটিএসকে! ফুটবল, সঙ্গীত আর বৈশ্বিক বিনোদনের এই মিশেলে ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, হয়ে উঠছে এক নতুন যুগের সূচনা!

১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই ম্যাচের বিরতিতে থাকবে জমকালো আয়োজন, যা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সুপার বোল আয়োজনের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই এটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক বিশেষ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। ‘২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধের বিরতির অনুষ্ঠানটি একটি সত্যিই বিশেষ মুহূর্ত হবে। এটা সঙ্গীত, ফুটবল এবং বিশ্বজুড়ে শিশুদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সহায়তা করবে।’

বিশ্বকাপের মতো ঐতিহ্যবাহী আসরে এমন আয়োজন আগে কখনো দেখা যায়নি। এতদিন ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ ছিল শুধুই খেলা। কিন্তু এবার ফিফা সেই ধারণা বদলে দিতে চাইছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, ফুটবল আর সঙ্গীতকে এক মঞ্চে আনা গেলে বিশ্বকাপের আবেদন বহুগুণ বাড়বে।

এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে শাকিরা। বিশ্বকাপের সাথে তার সম্পর্ক নতুন নয়। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছিলেন কলম্বিয়ান এই পপতারকা! সেই গান এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারো তিনি ফিরছেন নতুন গান নিয়ে। তার নতুন গান ‘দাই দাই’ হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সঙ্গীত।

এই গানে দেখা যাবে নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়কেও। সম্প্রতি প্রকাশিত গানের টিজারে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ত্রিওন্ডা’র পাশাপাশি ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের বলও দেখা গেছে। যেন পুরনো স্মৃতি আর নতুন ইতিহাসকে একসাথে তুলে ধরার চেষ্টা।

শুধু শাকিরাই নন, ফাইনালের মঞ্চে থাকবেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনাও। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব সঙ্গীতের অন্যতম বড় নাম তিনি। অন্য দিকে তরুণ প্রজন্মের উন্মাদনার কেন্দ্র বিটিএসও যোগ দিচ্ছে এই আয়োজনে। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপের থিম সং গাওয়া জন কুকের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরো আলোচিত করে তুলেছে। এই বিশাল আয়োজনের কিউরেটরের দায়িত্বে থাকছেন কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের ক্রিস মার্টিন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানটি যে বিশ্বমানের বিনোদনে পরিণত হবে, তা অনেকটাই নিশ্চিত। যদিও অনুষ্ঠানটি কতক্ষণ চলবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ধারণা, এটি প্রায় ১১ মিনিট দীর্ঘ হতে পারে!