ক্রীড়া প্রতিবেদক
জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে আটকে রেখেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিকদের কাছে ২৫ রানে হার টাইগারদের। ১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট করতে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন নাহিদ রানা। ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই তারকা।
হারারের মাঠে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুতে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় টাইগার পেসাররা। ৩৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ধস নামে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে। ৩৬ থেকে ৭০ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ উইকেট জুটির প্রতিরোধে তারা ১৪১ রান পর্যন্ত পৌঁছায়।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন নাহিদ রানা। দুর্দান্ত গতি ও নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ২টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি উইকেট নেন।
এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড নিজের করে নিলেন নাহিদ। এর আগে যৌথভাবে রেকর্ডটি ছিল মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেনের দখলে। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে মাশরাফি ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। পরে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেল ৫.৫ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন। নাহিদ ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন।
১৪২ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ মাঝে কিছুটা সামাল দেন নুরুল হাসান সোহান ও তৌহিদ হৃদয়। এরপর আর বড় কোন জুটি গড়তে না পারলে নিশ্চিত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
জিম্বাবুয়ে : ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ (বেনেট ১৭, কারান ১৮, কাইয়া ২৬, আরভিন ০, রাজা ১, মাধেভেরে ০, মাদান্দে ২, ইভান্স ৩, নিয়ামুরি ৩৩, এনগারাভা ২৭, মুজারাবানি ৪*; তাসকিন ২/৩২, নাহিদ ৬-২১, মিরাজ ১/২২)।
বাংলাদেশ : ৩৩.১ ওভারে ১১৬ (তানজিদ ৮, সৌম্য ৬, শান্ত ৩, হৃদয় ২৫, সোহান ৩১, মোসাদ্দেক ৩, মিরাজ ১০, রিশাদ ৩, তাসকিন ৫, মোস্তাফিজ ৫, নাহিদ ৫*; এনগারাভা ৩/৩১, মুজারাবানি ২/১৪, ইভান্স ৩/৩৪, নিয়ামুরি ২/২২)।
ফল : জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১-০ তে এগিয়ে।
ম্যাচ সেরা : নিউম্যান নিয়ামুরি।



