ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৩২, সুনামি সতর্কতা জারি

Printed Edition
ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোসে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য  : ইন্টারনেট
ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোসে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য : ইন্টারনেট

রয়টার্স

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে গতকাল সোমবার সকালে আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরো ১২৯ জন। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৮ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। অবশ্য প্রথমে জিএফজেড এর তীব্রতা ৮ দশমিক ২ বলে উল্লেখ করেছিল। অন্যদিকে ফিলিপাইনের সংস্থা ‘ফিভলকস’ এর তীব্রতা ৭ এবং ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) ৭ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা থেকে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের পরিচালক রদ্রিগো সসমিনা জানান, চার প্রদেশ ও একটি শহরজুড়ে বিস্তৃত সকসসারজেন অঞ্চলেই ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং সেখানে কমপক্ষে ১২৯ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির জেনারেল সান্তোস শহরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ দফতর জানিয়েছে। জেনারেল সান্তোস শহরের পুলিশের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট দাগোন বলেন, ‘বেশ কয়েকটি ভবন ও বাড়ি ধসে পড়েছে। উদ্ধারকাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নাম বলা সম্ভব হচ্ছে না।’ সারাঙ্গানি প্রদেশের আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান বেনজি আনচেতা রয়টার্সকে জানান, সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান চলাকালে এই ভূকম্পন অনুভূত হয় এবং এর পরপরই পুলিশ ভবনে ফাটল দেখা দেয়। এটিকে নিজেদের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফিভলকস তাদের সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং এক মিটারের বেশি উচ্চতার ঢেউয়ের সুনামি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরের শহর মানাদোতেও অত্যন্ত তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই দক্ষিণ আমেরিকা থেকে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই এমন দুর্যোগ ঘটে থাকে।