ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা শোধনাগার ও রেলস্টেশন লণ্ডভণ্ড

Printed Edition

রয়টার্স

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ব্যাপক পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, অন্য দিকে রাশিয়া আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের রেলস্টেশন ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে এক রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও একই অঞ্চলের কোনোতপ শহরে আরেক হামলায় এক রেলকর্মী প্রাণ হারান। অন্য দিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তাতারস্তানের একটি আবাসিক ভবনে তিনজন এবং সীমান্তবর্তী ব্রায়ানস্ক ওব্লাস্টে দু’জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ সম্প্রতি রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করায় ক্রিমিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাতারস্তানের নিজনেকামস্ক শহরে অবস্থিত রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ‘টানেকো’ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ মিলিয়ন টনেরও বেশি। এ ছাড়া তারা একই শহরের ‘তাইফ-এনকে’ শোধনাগারেও হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার দাবি করেছে। একই সাথে ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত সিন্থেটিক রাবার উৎপাদনকারী সামারা অঞ্চলের একটি কারখানাতেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতারাতি ২৩১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

অপর দিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া তাদের ওপর ১১৭টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে ১০২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রাশিয়ার ড্রোনগুলো উত্তরাঞ্চলীয় সুমি ওব্লাস্টের একটি রেলস্টেশন, বৈদ্যুতিক সঙ্কেত কেন্দ্র ও সাবস্টেশনে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাইকোলাইওভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় চারজন আহত এবং ১৪টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভয়াবহ এই ধ্বংসলীলার মধ্যেও উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়াল রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত

এনডিটিভি জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এক বেদনাদায়ক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সঙ্ঘাতের এক হাজার ৫৬৯ দিন পূর্ণ হওয়ায় এই লড়াইয়ের স্থায়িত্ব এখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, প্রায় অর্ধেক ইউক্রেনীয় নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে আগামী বছরের আগে এই যুদ্ধ শেষ হবে না। আর তেমনটি হলে এই সঙ্ঘাতের স্থায়িত্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছয় বছরের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।