চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গোসলে নেমে অসাবধানতাবশত ডুবে মারা যায় তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন ও সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃতরা হলো- চর চাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার ছোট বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার ছোট বোন সুরাইয়া (৯)।
ওসি বলেন, দুপুরে পাঁচ শিশু চর চাকলা এলাকায় পদ্মা শাখা নদী মরা পাগলায় গোসল করতে নামে। এ সময় হঠাৎ মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া পানিতে তলিয়ে যায়। বোনকে ডুবে যেতে দেখে তাকে উদ্ধারের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় ছোট বোন আরিবা। এরপর একে একে অন্য শিশুরাও তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে পানিতে নামে। একপর্যায়ে পাঁচ শিশুই পানিতে তলিয়ে যায়। নদী তীরবর্তী গ্রামের নারীরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দ্রুত সাঁতরে ঘটনাস্থলে যায় এবং শিশুদের উদ্ধার করে। কিন্তু তার আগেই মারা যায় সব শিশু।
উদ্ধারের সময় সেখানে উপস্থিত গৃহবধূ আকলিমা খাতুন বলেন, শিশুরা নদীতে গোসল করার সময় হঠাৎ তাদেরকে আর দেখা যাচ্ছিল না। তখনই মনে হয়েছিল তারা ডুবে গেছে। স্থানীয়রা লোকজন তাড়াহুড়ো করে তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু তার আগেই মারা যায় তারা।
চর চাকলা গ্রামে আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কিন্তু এক সাথে একই গ্রামের তিন পরিবারের পাঁচ শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি। এ হৃদয় বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে যায়। নিহতের পরিবারের সদস্যদের আপত্তির মুখে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হাস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বলেন, নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আমি প্রতিটি বাড়িতেই গিয়েছি। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহয়তা দেয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হবে।



