বিশেষ সংবাদদাতা
বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব আবার ব্যাংকটির মূল উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন করে ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নতুন এই পর্ষদ গঠন করে। এর মধ্যে নতুন বোর্ডে ১২ জন উদ্যোক্তা পরিচালক এবং দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দেশের ১৬টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বা তারা দায়িত্ব গ্রহণের মতো অবস্থায় ছিলেন না। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ব্যাংকটির উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় পরিচালনার দায়িত্ব পুনরায় তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নতুন পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আলহাজ আহামেদুল হক, মো: রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও মো: এনায়েত উল্লা। এ ছাড়া চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে ওয়াই স্টিল মিলস লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচালক মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের প্রধানের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। পরে খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের অন্য সদস্য ছিলেন মো: শাহীন উল ইসলাম, মো: আব্দুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। এর মধ্যে কয়েকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পরিচালনা পর্ষদের সামনে এখন আমানতকারীদের আস্থা আরো সুদৃঢ় করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন বজায় রাখা এবং টেকসই মুনাফা নিশ্চিত করার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।



