নিজস্ব প্রতিবেদক
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জরুরিভাবে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে এই পদক্ষেপগুলোর কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঙ্কটের এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত প্রধান উদ্যোগ গুলো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে এক হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচটি জেলার জন্য দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং তিন হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষে মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্কটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।



