সকালে ঢালাই, বিকেলেই ধসে গেল সেতু

Printed Edition
বরিশালের গৌরনদীতে ধসে যাওয়া সেতু : নয়া দিগন্ত
বরিশালের গৌরনদীতে ধসে যাওয়া সেতু : নয়া দিগন্ত

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

বরিশালের গৌরনদীতে ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর ছাদ ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধসে পড়েছে। গত বুধবার সকালে ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর বিকেলেই সেতুর ছাদ ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় কাজের মান ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের আহম্মেদকাঠী খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুতে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র দাসের অভিযোগ, বিধি অনুযায়ী ঢালাইয়ের আগে তাকে অবহিত করে তার উপস্থিতিতে কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা করেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ধসে পড়া অংশ অপসারণ করে সেতুটি নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ প্রকল্পের বিপরীতে এখনো কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।

তবে ঠিকাদার আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঢালাইয়ের আগের দিন পিআইও ও একজন প্রকৌশলী নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন। তখন ঢালাইয়ের সময়সূচি তাদেরকে জানানো হয়েছে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। তার দাবি, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। টানা বৃষ্টিতে খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় সেন্টারিংয়ে ব্যবহৃত বাঁশ ভেঙে পড়ায় সেতুর ছাদ ধসে যায়। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বরিশালের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ শেষ করতে পারেনি। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় ঠিকাদার আবুল খায়ের কাজটি শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে সেতুটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তারাও কাজ শেষ করতে পারেননি।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইব্রাহীম বলেন, কয়েক দিন আগে পিআইও সেতুটি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে কিছু অনিয়ম শনাক্ত করেন। তিনি ঠিকাদারকে গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢালাইয়ের আগে তাকে অবহিত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

ইউএনও বলেন, এ ঘটনায় ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।