চরফ্যাসন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও উপজেলা ওলামা লীগের সহসভাপতি নূরনবীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কর্মচারীকে ‘গায়েবিভাবে’ এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের স্বাক্ষর, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি মাদরাসা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মে- মাসের এমপিও তালিকায় দেখা যায়, গবেষণাগার পদে আতিকুর রহমান, ল্যাব সহকারী পদে সায়মা বেগম ও আয়া পদে নিছা বেগম গায়েবিভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সায়েম জানান, এমপিওভুক্ত এই তিন কর্মচারীকে তারা কোনো দিন দেখেননি এবং তাদের কোনো নিয়োগ পরীক্ষাও হয়নি। সহ-সুপার মমিনুল ইসলাম জানান, মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে চলছে, যার কোনো নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার নেই। এই ভুয়া নিয়োগের সাথে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া, সরকারি জনবল কাঠামো অনুযায়ী ল্যাব সহকারী ও গবেষণাগার পদে নিয়োগের জন্য মাদরাসায় কম্পিউটার ল্যাব এবং নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই মাদরাসায় এর কোনোটিই নেই। মাদরাসার সভাপতি আব্দুল আহাদ মিয়া জানান, কোনো নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই সুপার বিভিন্ন সময় রেজ্যুলেশনে তার স্বাক্ষর নিয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর এ কে এম আবুল খায়েরও নিয়োগ বোর্ডে থাকার বা স্বাক্ষর দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এদিকে এমপিওভুক্ত আতিকুর, সায়মা ও নিছা বেগম স্বীকার করেছেন যে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এক বছর আগে সুপারের কাছে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন তারা। তবে সুপার নূরনবী টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, সব নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে। মাদরাসা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন এবং সহকারী পরিচালক শুকুর আলম মজুমদার জানান, জালিয়াতির বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন এবং তদন্ত করে মূল হোতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



