মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
সৌদি আরবে ভালো কোম্পানিতে চাকরি, প্রতিদিন ৩৫ রিয়াল বেতন এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার জিরাট বাগানপাড়া গ্রামের পাঁচটি অসহায় পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের মিনু খাতুন ও তার সহযোগী বক্কর মাস্টারের ছেলে মো: সবুজের বিরুদ্ধে প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্র জানায়, আকর্ষণীয় কাজের ভিসার কথা বলে পাঠালেও বাস্তবে তাদের পাঠানো হয় টুরিস্ট বা পর্যটন ভিসায়। সৌদি আরবে পেঁৗঁছানোর পর তাদের বিভিন্ন কফিলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে গিয়ে কাজ বা বেতনের কোনো নিশ্চয়তা পাননি তারা। উল্টো জরিমানার অজুহাতে তাদের কাছ থেকে আরো অর্থ আদায় করা হয়। বেতন না পেয়ে প্রবাসে থাকা ব্যক্তিরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্য দিকে দেশে পরিবারগুলো এনজিও ও ব্যাংকঋণের কিস্তি শোধ করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রুবেল ও আজানুর ভিডিও বার্তায় জানান, তাদের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে। দেশে ফেরারও কোনো উপায় নেই। অভিযোগকারী সজিব জানান, অন্য চারজনের প্রবাসে দুর্দশার চিত্র দেখে তিনি আর যাননি। তবে তার কাছ থেকে আগেই দুই লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় সজিব দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ দালালচক্র সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতারকদের দ্রুত গ্রেফতার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টাকা ফেরত দেয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিনু খাতুন মোবাইল ফোনে লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে বিদেশে ভাগ্য একটি বড় বিষয়। আমরা যেখানে পাঠিয়েছিলাম সেখান থেকে তারা পালিয়ে গেছে। লাইসেন্স আছে কি না প্রশ্ন করলে তিনি বিস্তারিত না জানিয়ে পুরো বিষয়টির দায় সহযোগীদের ওপর চাপান। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
সহযোগী মো: সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা শুধু মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছি, প্রধান বিষয়গুলো ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে বসা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।



