ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
২০২৪ সালের ১ আগস্ট, যা আন্দোলনকারীরা ‘৩২ জুলাই’ হিসেবে পালন করেন, সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়। তবে কর্মসূচি ঘিরে কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং শিক্ষার্থী আটকের ঘটনা ঘটে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে ঘোষিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মৃতিচারণ, গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ফেস্টুন তৈরি ও বিভিন্ন প্রতীকী আয়োজন করা হয়।
এদিন সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পরদিন (২ আগস্ট/৩৩ জুলাই) দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্রজনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনে নিহত, আহত, পঙ্গু ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে জুমার নামাজ শেষে দোয়া, কবর জিয়ারত, বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনা এবং গণমিছিলের আহ্বান জানানো হয়।
দিনটির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দেয়া হয়। দুপুরে তারা ডিবি কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, টানা দুই দিন অনশনের কারণে তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।
একই দিনে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নির্বাহী আদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ পালন করা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থী হত্যার বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এদিন আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরের সামনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে জাতিসঙ্ঘ জানায়, বাংলাদেশের অনুরোধ পেলে কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত প্রাণহানি, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা তদন্তে হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।



